মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব একটি গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু নাক শুধু শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য নয়—এটি আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জীবনের মানের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত। নাকের ভেতরের অংশে এক ধরনের বিশেষ কোষ থাকে যা গন্ধ শনাক্ত করে মস্তিষ্কে পাঠায়। এই বিশেষ অংশটিকে বলা হয় অলফ্যাক্টরি এপিথেলিয়াম।এই অলফ্যাক্টরি এপিথেলিয়ামের স্নায়ুকোষ থেকে যদি ক্যান্সার তৈরি হয়, তখন তাকে বলা হয় এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা (Esthesioneuroblastoma) বা অলফ্যাক্টরি নিউরোব্লাস্টোমা। এটি একটি বিরল ধরনের ক্যান্সার, যা মূলত নাসার গহ্বরের উপরের অংশে, চোখের মাঝখান ও কপালের নিচের অঞ্চলে বিকাশ লাভ করে।
রোগের পরিচিতি ও বিরলতা:
এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা প্রথম ১৯২৪ সালে বার্গার এবং লুকাস নামের দুই চিকিৎসক দ্বারা চিহ্নিত হয়। এর পর থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর উপর সীমিত গবেষণা হয়েছে, কারণ এটি অত্যন্ত বিরল। বিশ্বব্যাপী সমস্ত নাক ও সাইনাস টিউমারের মধ্যে মাত্র ৩–৫% ক্ষেত্রে এই রোগ শনাক্ত হয়।
এই ক্যান্সার পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যেই হতে পারে, তবে বেশিরভাগ রোগীকে শনাক্ত করা হয় ২০–৬০ বছর বয়সের মধ্যে। শিশুদের মধ্যে এটি আরও বিরল।
রোগের বিকাশ ও ক্যান্সারের প্রকৃতি:
এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা ধীরে বা দ্রুত—উভয় গতিতে বাড়তে পারে। এটি প্রাথমিক অবস্থায় নাকের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে চোখের চারপাশ, সাইনাস, কপালের নিচের অংশ এমনকি মস্তিষ্কের সামনের অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি সাধারণ সাইনাস ইনফেকশন বা নাকের অন্য সমস্যার সাথে মিলে যায়, ফলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া কঠিন হয়।
লক্ষণসমূহ:
রোগের লক্ষণ নির্ভর করে ক্যান্সারের অবস্থান, আকার এবং কোন কোন অঙ্গে ছড়িয়েছে তার উপর। শুরুতে অনেক সময়ই রোগীর খুব বেশি সমস্যা হয় না, কিন্তু ধীরে ধীরে নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে:
১. নাক-সংক্রান্ত লক্ষণ
এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা সাধারণত নাকের ভেতরে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তাই প্রথমদিকে নাক-সংক্রান্ত সমস্যাই বেশি দেখা যায়।
-
নাক বন্ধ থাকা – একপাশে বা দুইপাশেই হতে পারে, তবে শুরুতে সাধারণত একপাশে।
-
নাক দিয়ে রক্ত পড়া (Epistaxis) – টিউমার ভঙ্গুর হওয়ায় অল্পতেই রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা বারবার হতে পারে।
-
নাক থেকে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব (Foul-smelling nasal discharge) – পুঁজ ও রক্ত মিশ্রিত হতে পারে।
-
ঘ্রাণশক্তি হ্রাস বা সম্পূর্ণ হারানো (Anosmia) – টিউমার olfactory nerve-এ চাপ দিলে গন্ধ বোঝার ক্ষমতা কমে যায়।
২. চোখ-সংক্রান্ত লক্ষণ
যদি টিউমার চোখের কোটর (orbit)-এর দিকে ছড়ায়, তখন চোখে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
-
চোখ ফুলে যাওয়া (Proptosis) – চোখ সামনের দিকে বেরিয়ে আসতে পারে।
-
দৃষ্টিক্ষীণতা (Blurred vision) – optic nerve চাপে পড়লে বা চোখের পেশি প্রভাবিত হলে হয়।
-
ডাবল দেখা (Diplopia) – চোখের পেশি চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে।
-
চোখে ব্যথা বা চাপ অনুভূতি।
৩. মাথা ও মুখ-সংক্রান্ত লক্ষণ
টিউমার যদি সাইনাস, গালের হাড় বা মাথার খুলি দিকে ছড়িয়ে যায়, তখন—
-
মাথাব্যথা – বিশেষ করে কপালের সামনের দিকে বা চোখের চারপাশে।
-
মুখে বা দাঁতে ব্যথা – ম্যাক্সিলারি সাইনাস আক্রান্ত হলে।
-
মুখ বা কপালে অবশভাব (Numbness) – স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে।
-
মুখের আকার বিকৃত হওয়া – বড় টিউমার হলে হাড় ফোলা দেখা দিতে পারে।
৪. স্নায়বিক লক্ষণ
যখন টিউমার খুলি ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছায়—
-
খিঁচুনি (Seizures)।
-
মানসিক পরিবর্তন (Personality changes) – frontal lobe involvement-এর কারণে।
-
স্মৃতিশক্তি হ্রাস।
-
বিভ্রান্তি বা আচরণগত পরিবর্তন।
-
মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো।
৫. গলার লিম্ফ নোডের পরিবর্তন
যদি ক্যান্সার মেটাস্টেসিস হয়—
-
গলার পাশে শক্ত গিঁট বা ফোলা।
-
লিম্ফ নোডে ব্যথা হতে পারে বা নাও হতে পারে।
৬. রোগের ধাপ অনুযায়ী লক্ষণ
-
প্রাথমিক পর্যায়ে: নাক বন্ধ, হালকা রক্তপাত, গন্ধ না পাওয়া।
-
মধ্য পর্যায়ে: চোখ ফুলে যাওয়া, মাথাব্যথা, মুখে ব্যথা।
-
উন্নত পর্যায়ে: খিঁচুনি, মানসিক পরিবর্তন, স্নায়বিক ঘাটতি, লিম্ফ নোড ফোলা।
কারণ ও ঝুঁকির কারণ:
কারণ (Causes)
এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলো হলো:
-
জেনেটিক মিউটেশন – নাকের গন্ধগ্রাহী স্নায়ুতে (olfactory neuroepithelium) DNA পরিবর্তন হয়ে কোষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে শুরু করে।
-
কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণের ব্যাঘাত – টিউমার সাপ্রেসর জিন নষ্ট হয়ে যাওয়া বা অনকোজিন সক্রিয় হওয়া।
-
ভাইরাস সংক্রমণ – কিছু ক্ষেত্রে Human Papilloma Virus (HPV) বা Epstein-Barr Virus (EBV)-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যদিও প্রমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।
-
দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ – নাক বা সাইনাসে দীর্ঘদিন ধরে প্রদাহ হলে কোষে স্থায়ী পরিবর্তন (metaplasia/dysplasia) হতে পারে।
ঝুঁকির কারণ (Risk Factors)
এসব ফ্যাক্টর সরাসরি রোগ সৃষ্টি না করলেও, রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
-
বয়স – সাধারণত ২০–৩০ বছর এবং ৫০–৬০ বছরের মধ্যে রোগের হার বেশি।
-
লিঙ্গ – পুরুষে কিছুটা বেশি প্রবণতা দেখা যায়।
-
পেশাগত এক্সপোজার – কাঠ, চামড়া, টেক্সটাইল, ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণ বা রাসায়নিক শিল্পে কাজ করার ফলে ধুলো, রাসায়নিক বা সলভেন্টে দীর্ঘমেয়াদি এক্সপোজার।
-
রেডিয়েশন এক্সপোজার – অতীতে মাথা বা মুখে রেডিয়েশন থেরাপি নিলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
-
ধূমপান ও ধোঁয়া – নাসাল মিউকোসায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালা সৃষ্টি করে।
-
ক্রনিক নাক বা সাইনাস রোগ – দীর্ঘস্থায়ী সাইনুসাইটিস বা নাকের পলিপ থাকলে।
-
পারিবারিক ইতিহাস – পরিবারের কারো নাসাল বা সাইনাস টিউমার থাকলে।
-
ভাইরাস সংক্রমণ – HPV বা EBV-এর সম্ভাব্য ভূমিকা।
রোগ নির্ণয়:
এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা নির্ণয়ের জন্য একাধিক ধাপ অনুসরণ করা হয়:
১. রোগীর ইতিহাস
-
প্রধান উপসর্গ: নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, গন্ধ না পাওয়া, চোখ ফুলে যাওয়া, মাথাব্যথা, দৃষ্টিসমস্যা ইত্যাদি।
-
উপসর্গের সময়কাল: কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে এবং ক্রমশ বেড়েছে কি না।
-
পূর্বের রোগের ইতিহাস: দীর্ঘস্থায়ী সাইনুসাইটিস, নাকের পলিপ, পূর্বের টিউমার বা রেডিয়েশন থেরাপি।
-
পেশাগত ও পরিবেশগত ইতিহাস: ধুলো, রাসায়নিক পদার্থ, শিল্পক্ষেত্রের এক্সপোজার।
-
পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের কারো নাক/সাইনাস টিউমারের ইতিহাস আছে কি না।
২. শারীরিক পরীক্ষা
-
নাকের ভেতরের পরীক্ষা (Anterior rhinoscopy / Nasal endoscopy)
-
টিউমার সাধারণত ধূসর-গোলাপি বা লালচে রঙের, ভঙ্গুর, সহজে রক্তপাত হয়।
-
টিউমারের আকার, অবস্থান ও নাকের কোন অংশে আছে তা নির্ধারণ।
-
-
চোখের পরীক্ষা
-
চোখ ফুলে গেছে কি না, দৃষ্টির ত্রুটি, ডাবল ভিশন।
-
-
গলার লিম্ফ নোড পরীক্ষা
-
গলার পাশে কোনো গিঁট আছে কি না।
-
৩. ইমেজিং পরীক্ষা
এসব পরীক্ষা টিউমারের অবস্থান, আকার ও ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা জানার জন্য অপরিহার্য।
-
CT scan (Computed Tomography)
-
হাড়ের ক্ষয় বা নাক/সাইনাসে টিউমারের বিস্তার বোঝায়।
-
-
MRI (Magnetic Resonance Imaging)
-
সফট টিস্যুর স্পষ্ট চিত্র, মস্তিষ্ক বা চোখের দিকে টিউমারের বিস্তার বোঝাতে বেশি কার্যকর।
-
-
PET scan
-
শরীরের অন্য কোথাও মেটাস্টেসিস আছে কি না তা জানার জন্য।
-
৪. বায়োপসি
-
Definitive diagnosis বায়োপসি ছাড়া সম্ভব নয়।
-
নাসাল এন্ডোস্কোপি-গাইডেড বায়োপসি সবচেয়ে প্রচলিত।
-
টিস্যুর হিস্টোপ্যাথলজি করে দেখা হয় কোষের ধরন, বিভাজনের মাত্রা।
-
প্রয়োজন হলে ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি (IHC) করা হয় যেমন Neuron-specific enolase (NSE), Synaptophysin, Chromogranin ইত্যাদি পজিটিভ পাওয়া যেতে পারে।
৫. স্টেজিং
-
টিউমারের বিস্তার, মস্তিষ্ক/চোখে ছড়িয়েছে কি না, লিম্ফ নোড বা দূরবর্তী অঙ্গে মেটাস্টেসিস আছে কি না তা নির্ধারণ।
-
স্টেজ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।
৬. ডিফারেনশিয়াল ডায়াগনোসিস
কারণ এর উপসর্গ অনেক সাধারণ রোগের সঙ্গে মিলে যায়, তাই অন্যান্য রোগ থেকে আলাদা করতে হয়:
-
নাকের পলিপ
-
ইনভার্টেড প্যাপিলোমা
-
স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা
-
অ্যাডেনয়েড সিস্টিক কার্সিনোমা
-
লিম্ফোমা
রোগের স্টেজিং:
এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা সাধারণত Kadish system বা TNM staging অনুসারে ভাগ করা হয়।
-
Kadish A: নাকের গহ্বরেই সীমাবদ্ধ।
-
Kadish B: নাক ও প্যারানাসাল সাইনাসে ছড়িয়েছে।
-
Kadish C: চোখের চারপাশ, কপালের নিচ, বা মস্তিষ্কে ছড়িয়েছে।
-
Kadish D: শরীরের অন্যান্য অংশে মেটাস্টেসিস হয়েছে।
চিকিৎসা:
চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে রোগের স্টেজ, রোগীর স্বাস্থ্য, এবং ক্যান্সারের আক্রমণাত্মকতার উপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বহুমুখী চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
১. সার্জারি
-
টিউমার সম্পূর্ণ বা যতটা সম্ভব অপসারণ করা হয়।
-
সাধারণত ক্রানিওফ্রন্টাল রাইজেকশন বা এন্ডোস্কোপিক নাজাল সার্জারি করা হয়।
-
মস্তিষ্ক বা চোখের দিকে ছড়িয়ে গেলে বড় শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
-
সার্জারির মাধ্যমে টিউমার পুরোপুরি তুলে না নেওয়া গেলে পরবর্তী চিকিৎসা জটিল হয়।
২. রেডিয়েশন থেরাপি
-
সার্জারির পর বা যদি অপারেশন সম্ভব না হয়, তখন রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয়।
-
টিউমার সেল ধ্বংস করার জন্য উচ্চ-শক্তির রশ্মি ব্যবহার করা হয়।
-
প্রাথমিকভাবে সার্জারির পরে বাকি কোষ ধ্বংস করার জন্য দেওয়া হয়।
-
অনেক সময় প্রাইমারি রেডিয়েশন হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
৩. কেমোথেরাপি
-
সাধারণত উন্নত বা মেটাস্ট্যাটিক (দূরস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছড়ানো) অবস্থায় দেওয়া হয়।
-
সার্জারি ও রেডিয়েশনের আগে বা পরে দেওয়া হতে পারে টিউমার সাইজ কমানোর জন্য।
-
ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে আছে— সিসপ্লাটিন, এতোপোসাইড, সাইক্লোফসফামাইড ইত্যাদি।
৪. সমন্বিত চিকিৎসা
-
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, সার্জারি, রেডিয়েশন এবং কেমোথেরাপির সংমিশ্রণই সর্বোত্তম ফল দেয়।
-
উদাহরণস্বরূপ— প্রথমে টিউমার অপসারণ, পরে রেডিয়েশন এবং মাঝে মাঝে কেমোথেরাপি।
৫. পুনরুদ্ধার ও ফলোআপ
-
চিকিৎসার পরে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, কারণ এই ধরনের টিউমারের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
-
ফলোআপে ইমেজিং, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করা হয়।
-
ফেসিয়াল ফাংশন, চোখের দৃষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হয়।
৬. প্যালিয়েটিভ কেয়ার
-
যদি রোগ অনেক বেশি ছড়িয়ে যায় বা চিকিৎসা সম্ভব না হয়, তবে ব্যথা ও উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে প্যালিয়েটিভ কেয়ার দেওয়া হয়।
জটিলতা:
-
দৃষ্টিশক্তি হারানো
-
ঘ্রাণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়া
-
মস্তিষ্কে সংক্রমণ (মেনিনজাইটিস)
-
রোগ পুনরাবৃত্তি
-
শরীরের অন্যান্য অংশে মেটাস্টেসিস
বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ও প্রগনোসিস:
বেঁচে থাকার হার নির্ভর করে স্টেজ, চিকিৎসার সাফল্য ও রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ৫ বছরের বেঁচে থাকার হার ৭০–৮০%, কিন্তু দেরিতে ধরা পড়লে তা অনেক কমে যায়।
প্রতিরোধ ও সচেতনতা:
যেহেতু এটি একটি বিরল ক্যান্সার এবং সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা, তাই প্রতিরোধ কঠিন। তবে—
-
ক্ষতিকারক রাসায়নিক থেকে দূরে থাকা
-
নাকের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে অবহেলা না করা
-
বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা একপাশের নাক বন্ধ থাকলে দ্রুত পরীক্ষা করা
—এসব সতর্কতা ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।
এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা একটি বিরল কিন্তু সম্ভাব্য গুরুতর নাকের ক্যান্সার। এর প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ সাইনাস ইনফেকশনের মতো হওয়ায় রোগ প্রায়ই দেরিতে ধরা পড়ে। তাই সচেতনতা ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ই রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। আধুনিক সার্জারি, রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির সমন্বয়ে এখন অনেক রোগী দীর্ঘদিন ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারেন।
……………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………
এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা: সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমা কি?
উত্তর: এটা নাকের উপরের অংশের গন্ধগ্রাহী স্নায়ুর কোষ থেকে উৎপন্ন একটি বিরল ধরনের ক্যান্সার।
প্রশ্ন ২: এর প্রধান লক্ষণগুলো কী?
উত্তর:
-
একপাশের নাক বন্ধ থাকা
-
নাক থেকে রক্তপাত
-
গন্ধ না পাওয়া
-
চোখ ফুলে যাওয়া বা দৃষ্টিভ্রংশ
-
মাথাব্যথা ও মুখে ব্যথা
প্রশ্ন ৩: এসথেসিওনিউরোব্লাস্টোমার কারণ কী?
উত্তর: সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে জেনেটিক মিউটেশন, দীর্ঘমেয়াদি নাকের প্রদাহ, ভাইরাস সংক্রমণ এবং পরিবেশগত রাসায়নিক এক্সপোজার জড়িত থাকতে পারে।
প্রশ্ন ৪: কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে?
উত্তর: ধুলো-রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা পেশাজীবী, মধ্যবয়স্ক ও যুবক বয়সী মানুষ, ধূমপায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি সাইনুসাইটিস আক্রান্তরা বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
প্রশ্ন ৫: রোগ নির্ণয়ের জন্য কী কী পরীক্ষা করা হয়?
উত্তর:
-
নাকের এন্ডোস্কপি ও শারীরিক পরীক্ষা
-
CT scan ও MRI
-
বায়োপসি করে টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ
প্রশ্ন ৬: চিকিৎসার প্রধান পদ্ধতি কী?
উত্তর: সার্জারি (টিউমার অপসারণ), রেডিয়েশন থেরাপি এবং কেমোথেরাপির সমন্বয়ে চিকিৎসা করা হয়। রোগের অবস্থা অনুসারে পদ্ধতিগুলো বেছে নেওয়া হয়।
প্রশ্ন ৭: লক্ষণ ও কারণের মধ্যে কী সম্পর্ক আছে?
উত্তর: কারণগুলো (যেমন জেনেটিক মিউটেশন, পরিবেশগত এক্সপোজার) টিউমার তৈরি করে, যা নাক ও আশেপাশের টিস্যুতে বৃদ্ধি পেয়ে লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে যেমন নাক বন্ধ থাকা, রক্তপাত ইত্যাদি।
প্রশ্ন ৮: কি কারণে এই রোগের সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ কঠিন?
উত্তর: কারণ এর লক্ষণগুলি অনেক সময় সাইনুসাইটিস বা নাকের পলিপের মতো সাধারণ রোগের সঙ্গে মিল থাকে, তাই দেরিতে চিকিৎসকের কাছে আসা হয়।
প্রশ্ন ৯: রোগটির পুনরাবৃত্তি বা মেটাস্টেসিসের সম্ভাবনা কতটুকু?
উত্তর: স্টেজ ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী পুনরাবৃত্তি হতে পারে, তাই নিয়মিত ফলোআপ অত্যন্ত জরুরি।
প্রশ্ন ১০: চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি ধরনের হতে পারে?
উত্তর: সার্জারির পর ফেসিয়াল ফাংশন প্রভাবিত হতে পারে, রেডিয়েশনে ত্বক ও নাকের ক্ষতি হতে পারে, কেমোথেরাপির কারণে শারীরিক দুর্বলতা, বমি, রক্তকণিকার পতন হতে পারে।
