Skip to content
জিওগ্রাফিক টং

জিওগ্রাফিক টং: জিহ্বার নিরাপদ প্রদাহজনিত অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ গাইড

আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো জিহ্বা। এটি শুধু স্বাদের অনুভূতিই প্রদান করে না, বরং খাবার চিবানো, গিলতে সাহায্য করা এবং কথা বলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনেক সময় জিহ্বায় কিছু অস্বাভাবিক দাগ বা চেহারার পরিবর্তন দেখা যায়, যা দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ ধরনের একটি সাধারণ কিন্তু নির্দোষ অবস্থা হলো জিওগ্রাফিক টং।চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে Benign Migratory Glossitis বলা হয়। নাম শুনলেই বোঝা যায় এটি একটি “নিরাপদ” বা ক্ষতিহীন সমস্যা। যদিও এই অবস্থায় জিহ্বার উপর লালচে বা মানচিত্রের মতো (Geographic Map-এর মতো) দাগ তৈরি হয়, তবুও এটি ক্যান্সার বা অন্য কোনো জটিল রোগে পরিণত হয় না। অনেক সময় রোগীরা এটিকে দেখে ভয় পেয়ে যান, কিন্তু আসলে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং চিকিৎসকের পরামর্শে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

জিওগ্রাফিক টং কী:

জিওগ্রাফিক টং হলো জিহ্বার পৃষ্ঠে অস্থায়ী প্রদাহের কারণে তৈরি হওয়া একটি অবস্থা। এতে জিহ্বার পৃষ্ঠে লালচে, মসৃণ ও মানচিত্রের মতো আকারের দাগ তৈরি হয়। দাগগুলো অনিয়মিত আকারের হয় এবং এর চারপাশে হালকা সাদা বা ধূসর রঙের সীমানা থাকতে পারে।

এই দাগগুলো কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে এবং পরে অদৃশ্য হয়ে আবার অন্য স্থানে নতুন করে তৈরি হতে পারে। এজন্য একে “Migratory” বলা হয়, কারণ এটি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তরিত হয়।

জিওগ্রাফিক টং-এর মূল বৈশিষ্ট্য:

  • জিহ্বায় মানচিত্রের মতো আকারের লালচে দাগ

  • মসৃণ ও চকচকে অংশ

  • দাগের চারপাশে হালকা সাদা বা ধূসর রেখা

  • দাগগুলো কিছুদিন পর নিজে থেকেই চলে যায় এবং নতুন করে অন্য জায়গায় দেখা দেয়

  • এটি বেদনাহীন, তবে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য জ্বালাপোড়া হতে পারে

জিওগ্রাফিক টং-এর কারণ:

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখনো পর্যন্ত জিওগ্রাফিক টং-এর সঠিক কারণ নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে গবেষকরা মনে করেন এটি একটি বহুঘটকীয় (multifactorial) সমস্যা। সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:

১. জিনগত প্রভাব
  • গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় একই পরিবারের একাধিক সদস্য জিওগ্রাফিক টং-এ আক্রান্ত হন।

  • এটি প্রমাণ করে যে, বংশগত জিনগত বৈশিষ্ট্য এই অবস্থার একটি বড় কারণ।

  • বিশেষ করে যেসব পরিবারে Psoriasis (ত্বকের একটি প্রদাহজনিত রোগ) রয়েছে, তাদের মধ্যে জিওগ্রাফিক টং হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

  • তাই এটিকে অনেক সময় Hereditary Condition বলেও উল্লেখ করা হয়।

২. ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া
  • অনেক গবেষক মনে করেন, জিওগ্রাফিক টং একটি Autoimmune-related Condition হতে পারে।

  • শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কখনো কখনো নিজেরই সুস্থ কোষকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করে।

  • জিহ্বার পৃষ্ঠে থাকা Papillae (ছোট ছোট উঁচু অংশ) হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং সেখানে লালচে মসৃণ দাগ তৈরি হয়।

  • এই প্রক্রিয়াটি অনেকটা Psoriasis বা Eczema-এর মতো প্রদাহজনিত ত্বকের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত।

৩. মানসিক চাপ ও স্ট্রেস
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ জিওগ্রাফিক টং-এর অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।

  • স্ট্রেস শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে এবং প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়ায়।

  • অনেক সময় দেখা যায়, অতিরিক্ত টেনশন, মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাবের পর জিহ্বায় এই দাগগুলো হঠাৎ বেড়ে যায়।

  • তাই এটিকে Stress-Triggered Condition বলা যায়।

৪. হরমোনাল পরিবর্তন
  • মহিলাদের মধ্যে জিওগ্রাফিক টং-এর প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

  • গর্ভাবস্থা, মাসিক চক্র বা মেনোপজের সময় হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করে।

  • এই পরিবর্তনগুলো জিহ্বার প্রদাহ ও সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে।

  • এজন্য অনেক সময় গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে জিওগ্রাফিক টং অস্থায়ীভাবে বেশি দেখা যায়।

৫. খাদ্যাভ্যাস ও সংবেদনশীলতা
  • অনেক রোগী লক্ষ্য করেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর দাগগুলো হঠাৎ বেড়ে যায়।

  • সাধারণত নিচের খাবারগুলো এই অবস্থাকে বাড়িয়ে দিতে পারে:

    • ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার

    • টক জাতীয় ফল (লেবু, কমলা, আনারস)

    • টমেটো

    • চকলেট

    • গরম খাবার

    • মদ্যপান ও ধূমপান

  • এসব খাবার সরাসরি জিহ্বাকে উত্তেজিত করে এবং প্রদাহের জায়গায় জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দেয়।

৬. পুষ্টির ঘাটতি
  • ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি জিহ্বার স্বাস্থ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

  • বিশেষ করে যাদের মধ্যে নিচের ঘাটতি রয়েছে, তাদের মধ্যে জিওগ্রাফিক টং বেশি দেখা যায়:

    • ভিটামিন বি কমপ্লেক্স (বিশেষ করে B12)

    • আয়রন (Iron)

    • জিঙ্ক (Zinc)

  • এসব ঘাটতি জিহ্বার কোষের পুনর্গঠন ব্যাহত করে এবং প্রদাহকে ত্বরান্বিত করে।

৭. অ্যালার্জি
  • কিছু মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট খাবার বা পরিবেশগত উপাদানের প্রতি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া থাকে।

  • এই অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া কখনো কখনো জিহ্বার কোষকে প্রভাবিত করে এবং জিওগ্রাফিক টং-এর দাগ সৃষ্টি করে।

  • উদাহরণস্বরূপ: ধুলোবালি, পরাগ রেণু, নির্দিষ্ট ওষুধ বা খাবারের অ্যালার্জি।

৮. ধূমপান ও মদ্যপান
  • ধূমপান জিহ্বার স্বাভাবিক কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে।

  • মদ্যপান মুখের লালা কমিয়ে দেয়, ফলে জিহ্বা শুষ্ক হয়ে যায় এবং সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়।

  • এই কারণে ধূমপায়ী ও মদ্যপায়ীদের মধ্যে জিওগ্রাফিক টং বেশি দেখা যায়।

৯. অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণ
    • কিছু দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা জিওগ্রাফিক টং-এর ঝুঁকি বাড়ায়:

      • Psoriasis: ত্বকের প্রদাহজনিত রোগ, যা অনেক সময় জিহ্বাতেও প্রভাব ফেলে

      • ডায়াবেটিস: রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণহীন থাকলে জিহ্বার প্রদাহ বেড়ে যায়

      • অ্যাজমা ও অ্যালার্জি: এ ধরনের রোগীদের মধ্যে মুখগহ্বরের সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়

জিওগ্রাফিক টং-এর উপসর্গ:

যদিও এটি সাধারণত বেদনাহীন, তবুও অনেক সময় রোগীরা কিছু উপসর্গ অনুভব করতে পারেন। সেগুলো হলো:

প্রধান উপসর্গ
  1. জিহ্বায় লালচে দাগ

    • জিহ্বার পৃষ্ঠে অনিয়মিত আকৃতির লালচে প্যাচ বা দাগ দেখা যায়।

    • এগুলো অনেকটা মানচিত্রের মতো দেখায়, এজন্য এ রোগের নাম “জিওগ্রাফিক টং।”

  2. প্যাপিলার (Papillae) অনুপস্থিতি

    • স্বাভাবিক অবস্থায় জিহ্বার উপরে ছোট ছোট দানা বা Papillae থাকে।

    • কিন্তু আক্রান্ত অংশে এগুলো হারিয়ে যায় এবং জায়গাটি মসৃণ ও চকচকে হয়ে ওঠে।

  3. সাদা বা ধূসর রেখা দ্বারা ঘেরা দাগ

    • লালচে দাগগুলোর চারপাশে পাতলা সাদা বা ধূসর সীমারেখা থাকে, যা স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেয়।

  4. দাগের স্থান পরিবর্তন

    • দাগগুলো কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এক জায়গায় থাকে, পরে মিলিয়ে গিয়ে অন্য জায়গায় নতুন করে দেখা দেয়।

    • এজন্য এটিকে Migratory Glossitis বলা হয়।

সম্ভাব্য অস্বস্তি:

যদিও এটি সাধারণত ব্যথাহীন, তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগীরা নিচের অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন:

  • ঝাল, টক, লবণাক্ত বা গরম খাবার খাওয়ার সময় জ্বালা বা পোড়ার অনুভূতি

  • হালকা চুলকানি বা অস্বস্তি

  • খুবই কম ক্ষেত্রে স্বাদ গ্রহণে পরিবর্তন

  • দীর্ঘস্থায়ী ক্ষেত্রে খাওয়ার সময় সামান্য ব্যথা

উপসর্গের সময়কাল:

    • উপসর্গ কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

    • অনেক সময় কোনো চিকিৎসা ছাড়াই দাগ মিলিয়ে যায়।

    • আবার হঠাৎ নতুন জায়গায় দেখা দেয়।

কারা বেশি আক্রান্ত হন:

জিওগ্রাফিক টং যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি বেশি:

  • শিশু ও কিশোরদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়

  • মহিলাদের মধ্যে কিছুটা বেশি প্রচলিত

  • যাদের পরিবারে আগে এই সমস্যা ছিল

  • যারা বারবার স্ট্রেস বা উদ্বেগে ভোগেন

  • যাদের সোরিয়াসিস (Psoriasis) নামক ত্বকের রোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে জিওগ্রাফিক টং-এর প্রবণতা বেশি

জিওগ্রাফিক টং কি বিপজ্জনক:

না, এটি মোটেও বিপজ্জনক নয়। এটি ক্যান্সার বা অন্য কোনো জটিল রোগের কারণ হয় না। এটি একটি সম্পূর্ণ Benign (ক্ষতিহীন) অবস্থা। তবে অনেক সময় এর চেহারা ভীতিকর মনে হতে পারে।

চিকিৎসা ও করণীয়:

সাধারণত জিওগ্রাফিক টং-এর জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে উপসর্গগুলো যদি বিরক্তিকর হয়, তবে কিছু পরামর্শ অনুসরণ করা যেতে পারে:

১. চিকিৎসা (Medical Treatment)

১.১ সাধারণ নীতি
  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে জিওগ্রাফিক টং-এর জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না।

  • দাগগুলো সাধারণত কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর অদৃশ্য হয়ে যায়।

  • তবে যেসব রোগীর জ্বালা, ব্যথা বা খাওয়ার অস্বস্তি বেশি, তাদের জন্য উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।

১.২ সম্ভাব্য ওষুধ ও চিকিৎসা

চিকিৎসক নিচের উপায়গুলো পরামর্শ দিতে পারেন:

  1. টপিক্যাল কর্টিকোস্টেরয়েড (Topical Corticosteroids)

    • জিহ্বার দাগে প্রদাহ কমাতে এবং ব্যথা বা জ্বালা হ্রাস করতে ব্যবহার করা হয়।

    • সাধারণত জেল বা মলম আকারে দেওয়া হয়।

  2. অ্যান্টিহিস্টামিন মাউথওয়াশ (Antihistamine Mouth Rinse)

    • যাদের অ্যালার্জির কারণে উপসর্গ বাড়ে, তাদের ক্ষেত্রে উপকারী।

    • এটি প্রদাহ ও জ্বালা কমাতে সাহায্য করে।

  3. অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল মাউথওয়াশ (Alcohol-free)

    • মুখের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে।

    • সেকেন্ডারি ইনফেকশন (দাগের জায়গায় সংক্রমণ) প্রতিরোধ করে।

  4. পেইন রিলিভার (Analgesics)

    • হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি কমাতে Paracetamol বা Ibuprofen ব্যবহার করা যেতে পারে।

  5. ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টস

    • ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, জিঙ্ক এবং আয়রনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসক সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন।

    • এটি জিহ্বার কোষ পুনর্গঠন ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

২. করণীয় (Lifestyle & Home Remedies)

চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু সহজ করণীয় অনুসরণ করলে রোগী স্বস্তি পেতে পারেন এবং সমস্যা বারবার বেড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

২.১ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
  • ঝাল, মশলাযুক্ত, টক ও লবণাক্ত খাবার পরিহার করা

  • সাইট্রাস ফল (লেবু, কমলা, আনারস), টমেটো, চকলেট ও অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার না খাওয়া

  • গরম খাবার ঠান্ডা করে খাওয়া

  • অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন কমানো

  • পর্যাপ্ত পানি পান করা

২.২ মুখগহ্বরের যত্ন
  • দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা

  • নরম ব্রাশ ব্যবহার করা

  • জিহ্বা অতিরিক্ত জোরে ঘষা এড়ানো

  • অ্যালকোহল-মুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা

২.৩ মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি এড়িয়ে চলা

  • যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, বই পড়া বা হাঁটাহাঁটি করা

  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

২.৪ সুষম খাদ্য গ্রহণ
  • ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, আয়রন ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া (ডিম, দুধ, মাছ, বাদাম, সবুজ শাকসবজি)

  • লোহা (Iron) ও জিঙ্কযুক্ত খাবার জিহ্বার স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক

  • বেশি পানি খাওয়া ও মুখ সবসময় আর্দ্র রাখা

৩. কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন:

যদিও জিওগ্রাফিক টং সাধারণত ক্ষতিহীন, তবুও কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি:

    • জিহ্বার দাগ দীর্ঘ সময় ধরে না সারা

    • অতিরিক্ত ব্যথা বা জ্বালা অনুভব হওয়া

    • খাওয়ার সময় তীব্র অস্বস্তি বা স্বাদ পরিবর্তন হওয়া

    • জিহ্বার আকার বা রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেওয়া

    • অন্য কোনো মুখের সমস্যা (ঘন ঘন আলসার, সংক্রমণ) একসাথে দেখা দিলে

জিওগ্রাফিক টং নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা:

  1. এটি ক্যান্সার হতে পারে → একেবারেই নয়

  2. এটি সংক্রামক → ভুল; এটি অন্যকে ছড়ায় না

  3. চিরস্থায়ী সমস্যা → সাধারণত অস্থায়ী ও নিজে থেকেই চলে যায়

  4. এটির কোনো চিকিৎসা নেই → প্রয়োজনে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা যায়

জিওগ্রাফিক টং একটি নিরীহ, প্রদাহজনিত অবস্থা যা জিহ্বার পৃষ্ঠকে প্রভাবিত করে। এটি ভীতিকর মনে হলেও আসলে কোনো জটিল রোগ নয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যাদের ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবারে সমস্যা হয়, তাদের উচিত সেসব খাবার এড়িয়ে চলা।সঠিক সচেতনতা, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্ট্রেস কমিয়ে চললে জিওগ্রাফিক টং সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….

জিওগ্রাফিক টং: জিহ্বার নিরাপদ প্রদাহজনিত অবস্থা (FAQ)

1.জিওগ্রাফিক টং কী?

জিওগ্রাফিক টং হলো জিহ্বার পৃষ্ঠে মানচিত্রের মতো লালচে দাগ তৈরি হওয়া একটি নিরীহ প্রদাহজনিত অবস্থা। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে Benign Migratory Glossitis নামে পরিচিত।

2.জিওগ্রাফিক টং কি বিপজ্জনক?

না, এটি ক্যান্সার বা অন্য কোনো জটিল রোগ নয়। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়।

3.এই সমস্যা কি সংক্রামক?

একেবারেই না। জিওগ্রাফিক টং কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট নয়, তাই এটি অন্য কাউকে ছড়ায় না।

4.জিওগ্রাফিক টং-এর প্রধান উপসর্গ কী কী?

প্রধান উপসর্গ হলো:

  • জিহ্বায় লালচে মানচিত্রের মতো দাগ

  • দাগের চারপাশে সাদা বা ধূসর রেখা

  • আক্রান্ত অংশ মসৃণ ও চকচকে হওয়া

  • কিছু ক্ষেত্রে ঝাল বা টক খাবার খেলে জ্বালাপোড়া হওয়া

5.এর কারণ কী?

সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:

  • জিনগত প্রভাব

  • ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া

  • ভিটামিন বি, আয়রন বা জিঙ্কের ঘাটতি

  • মানসিক চাপ ও স্ট্রেস

  • ঝাল, টক বা গরম খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতা

  • হরমোন পরিবর্তন (বিশেষত মহিলাদের মধ্যে)

6.এর জন্য কি কোনো চিকিৎসা দরকার হয়?

সাধারণত কোনো চিকিৎসা লাগে না। তবে যদি জ্বালা বা অস্বস্তি বেশি হয়, চিকিৎসক Topical corticosteroid, Antihistamine mouth rinse, Vitamin supplements বা ব্যথানাশক ওষুধ দিতে পারেন।

7.করণীয় কী কী?
  • ঝাল, টক, গরম ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা

  • অ্যালকোহল ও ধূমপান থেকে বিরত থাকা

  • অ্যালকোহল-মুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা

  • মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

  • পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা

  • ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

8.জিওগ্রাফিক টং কি সারাজীবন থাকবে?

 না, এটি সাধারণত অস্থায়ী। দাগ কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ থাকে, তারপর মিলিয়ে যায় এবং আবার নতুন জায়গায় দেখা দিতে পারে। অনেক সময় একেবারেই দীর্ঘদিন আর দেখা যায় না।

9.কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?

 যদি—

  • দাগ দীর্ঘসময় ধরে না সারে

  • জ্বালা ও ব্যথা খুব বেশি হয়

  • খাওয়ার সময় প্রচণ্ড অস্বস্তি হয়

  • জিহ্বার রঙ বা আকার অস্বাভাবিকভাবে বদলে যায়

10.শিশুদের মধ্যেও কি জিওগ্রাফিক টং হতে পারে?

 হ্যাঁ, শিশুদের মধ্যেও এটি দেখা যেতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি নিরীহ এবং সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়।