Skip to content
প্রোস্টেট ক্যানসার

প্রোস্টেট ক্যানসার : কীভাবে বুঝবেন আপনার প্রোস্টেট ক্যানসার হয়েছে

প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ও ভয়াবহ একটি ক্যানসার। সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পর পুরুষদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে সময়মতো সঠিক জ্ঞান ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ রোগ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব প্রোস্টেট ক্যানসার কী, এর প্রাথমিক ও পরবর্তী লক্ষণ কী, কীভাবে নির্ণয় করা হয়, এবং কখন আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কেন হয় প্রোস্টেট ক্যানসার:

১. বয়স (Age)

প্রোস্টেট ক্যানসার বৃদ্ধ বয়সের পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ৫০ বছরের পর থেকে এই ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে পুরুষদের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

২. বংশগত কারণ (Genetics)

যদি পরিবারের অন্য কোনো সদস্য — বিশেষ করে পিতা, ভাই অথবা কাকা — প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে ওই ব্যক্তির এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। BRCA1 এবং BRCA2 নামক কিছু নির্দিষ্ট জিন এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যেগুলো স্তন ক্যানসারের সঙ্গেও যুক্ত।

৩. জাতি ও জাতিগত পার্থক্য (Ethnicity)

আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসারের হার অনেক বেশি এবং মৃত্যুহারও তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে, এশীয় দেশগুলোর পুরুষদের মধ্যে এই হার তুলনামূলকভাবে কম।

৪. হরমোনের ভূমিকা (Hormonal Factors)

টেস্টোস্টেরন (Testosterone) নামক পুরুষ হরমোন প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা উচ্চ মাত্রায় টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করেন বা শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি টেস্টোস্টেরন থাকে, তাদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

৫. খাদ্যাভ্যাস (Diet)

চর্বিযুক্ত (fatty) খাবার, বিশেষ করে প্রাণিজ উৎস থেকে আসা চর্বি, অতিরিক্ত লাল মাংস এবং দুগ্ধজাত খাবার বেশি খেলে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ফলমূল, সবজি, টমেটো (যাতে লাইকোপিন থাকে), সয়া, গ্রিন টি প্রভৃতি খাবার কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।

৬. পরিবেশগত ও জীবনধারা বিষয়ক কারণ (Environmental & Lifestyle Factors)

দীর্ঘমেয়াদি ধূমপান, অনিয়মিত জীবনযাপন, স্থূলতা (obesity), অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এবং মানসিক চাপ—এই সবকিছু প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৭. প্রদাহ এবং সংক্রমণ (Inflammation and Infections)

প্রোস্টেটাইটিস (prostatitis) বা প্রোস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ এবং দীর্ঘদিনের সংক্রমণ প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণসমূহ:

শুরুতেই প্রোস্টেট ক্যানসারের তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, যা একে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। তবে কিছু প্রাথমিক লক্ষণ লক্ষ্য করা যেতে পারে, যেমন:

    1. প্রস্রাবের সমস্যাঃ

      • প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা হওয়া।

      • প্রস্রাব করার সময় ধীর প্রবাহ বা প্রবাহ থেমে যাওয়া।

      • ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া, বিশেষ করে রাতে (nocturia)।

      • হঠাৎ প্রস্রাব পেয়ে যাওয়া বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা।

      • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভব হওয়া।

    2. প্রস্রাবে রক্ত বা অস্বাভাবিকতা:

      • প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি (Hematuria)।

      • বীর্যে রক্ত থাকা।

    3. যৌন ক্ষমতায় পরিবর্তন:

      • ইরেকটাইল ডিসফাংশন (লিঙ্গ উত্তেজনায় সমস্যা)।

      • বীর্য স্খলনের সময় ব্যথা।

    4. পেলভিক বা কোমরের ব্যথা:

      • কোমর, ঊরু বা পেলভিক অঞ্চলে ব্যথা হতে পারে, যা হাড়ে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

    5. হাড়ে ব্যথা বা দুর্বলতা (পরবর্তী পর্যায়ে):

      • ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে গেলে হাড়ে ব্যথা, দুর্বলতা বা ভঙ্গুরতা দেখা দিতে পারে।

প্রোস্টেট ক্যানসারের পরবর্তী লক্ষণসমূহ:

১. হাড়ে ব্যথা:
  • কোমর, পিঠ, উরু, বা ঘাড়ে তীব্র ও অবিরাম ব্যথা।

  • ক্যানসার যদি হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে হাড় দুর্বল হয়ে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

২. গভীর ক্লান্তি ও দুর্বলতা:
  • শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগা।

  • আগের মতো কোনো কাজ করতে না পারা।

  • ওজন কমে যাওয়া ও ক্ষুধা হ্রাস।

৩. মূত্রনালী ও কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা:
  • প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নিয়ন্ত্রণ হারানো।

  • ক্যানসার মূত্রনালী বা ইউরেটারে চাপ সৃষ্টি করলে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. নিউরোলজিক্যাল লক্ষণ (যদি স্পাইনাল কর্ডে ছড়ায়):
  • পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা।

  • হাঁটার সমস্যা।

  • মূত্র বা মল ধরে রাখতে না পারা (incontinence)।

৫. বীর্য বা প্রস্রাবে রক্ত:
  • এই লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়েও হতে পারে, তবে পরে আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

৬. লিম্ফ নোডে ফোলাভাব:
  • ক্যানসার যদি কাছাকাছি লিম্ফ গ্ল্যান্ডে ছড়ায়, তাহলে অণ্ডকোষ বা কুঁচকিতে ফোলাভাব হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন:

১. প্রস্রাবজনিত যেকোনো অস্বাভাবিকতা:
  • প্রস্রাব করতে অসুবিধা হওয়া বা ধীর গতিতে আসা

  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন, বিশেষ করে রাতে

  • প্রস্রাবের পরেও মূত্রথলিতে বাকি আছে বলে অনুভব হওয়া

  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা

২. যৌন ক্ষমতার পরিবর্তন:
  • ইরেকটাইল ডিসফাংশন (লিঙ্গ সঠিকভাবে উত্তেজিত না হওয়া)

  • বীর্য স্খলনের সময় ব্যথা

  • বীর্যে রক্ত লক্ষ্য করা

৩. অস্বাভাবিক ব্যথা:
  • কোমর, পিঠ, পেলভিস বা উরুতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

  • হাড়ে ব্যথা বা দুর্বলতা, বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে

৪. পরিবারে প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে:
  • যদি পিতা, ভাই বা অন্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয় প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে বয়স ৪০–৪৫ পেরোলেই নিয়মিত স্ক্রিনিং করা উচিত

৫. বয়স ৫০ বছরের বেশি হলে:
  • উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, বয়স ৫০ পেরুলে বছরে অন্তত একবার প্রোস্টেট পরীক্ষা (PSA টেস্ট ও ডিজিটাল রেক্টাল এক্সাম) করিয়ে নেওয়া উচিত

৬. ওজন হ্রাস ও দুর্বলতা:
  • অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমে যাওয়া

  • সবসময় দুর্বল বা ক্লান্ত অনুভব করা

চিকিৎসক কী পরীক্ষা করতে পারেন:

চিকিৎসক নিম্নোক্ত পরীক্ষা সুপারিশ করতে পারেন:

  • PSA (Prostate Specific Antigen) টেস্ট

  • ডিজিটাল রেক্টাল এক্সাম (DRE)

  • প্রোস্টেট আলট্রাসনোগ্রাম বা MRI

  • বায়োপসি (Biopsy) – নিশ্চিত হওয়ার জন্য

কীভাবে নির্ণয় করা হয় প্রোস্টেট ক্যানসার:

প্রোস্টেট ক্যানসার নির্ণয়ে কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা রয়েছে। সেগুলো হলো:

1. PSA টেস্ট (Prostate Specific Antigen Test)

এই রক্ত পরীক্ষায় প্রোস্টেট গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত PSA প্রোটিনের মাত্রা মাপা হয়। মাত্রা বেশি হলে ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে।

2. ডিজিটাল রেক্টাল এক্সাম (DRE)

চিকিৎসক আঙ্গুল দিয়ে মলদ্বার দিয়ে প্রোস্টেট গ্রন্থি পরীক্ষা করেন।

3. বায়োপসি

প্রোস্টেট থেকে সামান্য টিস্যু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।

4. MRI বা TRUS (Transrectal Ultrasound)

প্রোস্টেটের গঠন ভালোভাবে দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।

কীভাবে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব:

১.স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
  • চর্বিহীন ও কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খান

  • সবজি ও ফলমূল বেশি খান, বিশেষ করে টমেটো, ব্রোকোলি, ক্যালি, সয়া, গ্রিন টি — যেগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ

  • লাল মাংস ও দুগ্ধজাত চর্বিযুক্ত খাবার কম খান

  • ফাইবার ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (যেমন সামুদ্রিক মাছ) গ্রহণ বাড়ান

২. নিয়মিত ব্যায়াম
  • সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

  • স্থূলতা প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

৩.ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন
  • দীর্ঘমেয়াদি ধূমপান এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন ঝুঁকি বাড়াতে পারে

  • এগুলো বন্ধ করলে কেবল প্রোস্টেট নয়, অন্যান্য ক্যানসার থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়

৪.নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • বয়স ৫০-এর পর (বা পরিবারে ইতিহাস থাকলে ৪৫-এর পর) প্রতি বছর PSA টেস্ট ও ডিজিটাল রেক্টাল এক্সাম করানো উচিত

  • প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ ও সফল হয়

৫.বংশগত ইতিহাস জানা
  • যদি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসার থাকে, তবে তা গুরুত্বসহকারে নিন

  • কিছু ক্ষেত্রে জিনেটিক কাউন্সেলিং প্রয়োজন হতে পারে

 

বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কিছু প্রতিরোধমূলক উপাদান:

উপাদান ভূমিকা
Lycopene (টমেটোতে পাওয়া যায়) কোষের ক্ষয় রোধে সাহায্য করে
সয়া প্রোটিন হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক
গ্রিন টি ক্যানসার কোষ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কাজ করে
Vitamin D টেস্টোস্টেরন মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে

প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা পদ্ধতি সমূহ:

১.Active Surveillance (নিয়মিত পর্যবেক্ষণ)
  • প্রাথমিক বা ধীরে বাড়া ক্যানসার হলে চিকিৎসা শুরু না করে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।

  • প্রতি ৬-১২ মাসে PSA টেস্ট, ডিজিটাল রেক্টাল এক্সাম, এবং বায়োপসি করা হয়।

  • যারা বয়সে বেশি বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত, তাদের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি।

২.Surgery (অপারেশন)

Radial Prostatectomy

  • পুরো প্রোস্টেট গ্রন্থি ও আশপাশের টিস্যু অপসারণ করা হয়।

  • যদি ক্যানসার প্রোস্টেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে এটি একদম ভালো ফল দিতে পারে।

দুই ধরণের সার্জারি:

  • Open Surgery (পেট কেটে)

  • Laparoscopic বা Robotic Surgery (ছোট ছিদ্র করে)

পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ

  • ইরেকটাইল ডিসফাংশন

  • মূত্র নিয়ন্ত্রণের সমস্যা

৩.Radiation Therapy (রেডিয়েশন থেরাপি)

External Beam Radiation Therapy (EBRT)

  • বাইরে থেকে রেডিওওয়েভ দিয়ে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়।

Brachytherapy (Internal Radiation)

  • প্রোস্টেট গ্রন্থির ভেতরে ছোট রেডিয়েশন সিড লাগানো হয়।

উপযুক্তঃ মধ্যম বা উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের জন্য।

৪.Hormone Therapy (Androgen Deprivation Therapy – ADT)
  • প্রোস্টেট ক্যানসার টেস্টোস্টেরন হরমোনের ওপর নির্ভরশীল হয়। এই থেরাপি সেই হরমোনের মাত্রা কমিয়ে ক্যানসারের বৃদ্ধি ধীর করে।

দুটি পদ্ধতি:

  • মেডিসিন দিয়ে টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন বন্ধ করা

  • অণ্ডকোষ অপসারণ করা (Orchiectomy)

সাধারণত মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

৫.Chemotherapy
  • ওষুধের মাধ্যমে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়।

  • সাধারণত তখন ব্যবহার করা হয় যখন হরমোন থেরাপি কাজ করে না।

  • সাধারণ ওষুধ: Docetaxel, Cabazitaxel

৬.Immunotherapy
  • শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে ক্যানসার কোষ আক্রমণ করতে সাহায্য করে।

উদাহরণ:

  • Sipuleucel-T (Provenge): বিশেষ ধরনের ইমিউন কোষ দিয়ে তৈরি কাস্টম থেরাপি

৭.Targeted Therapy
  • নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে এমন ওষুধ।

  • যারা BRCA মিউটেশন বহন করেন, তাদের জন্য PARP inhibitor (যেমন: Olaparib) ব্যবহার করা যায়।

প্রোস্টেট ক্যানসার ও মানসিক স্বাস্থ্য:

যেকোনো ক্যানসার রোগীই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন। প্রোস্টেট ক্যানসারেও এর ব্যতিক্রম নয়। রোগীকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দিতে হবে, বিশেষ করে পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতা অনেক জরুরি।

ভুল ধারণা ও বাস্তবতা:

অনেকেই মনে করেন প্রোস্টেট ক্যানসার মানেই মৃত্যু নিশ্চিত — এটি ভুল ধারণা। সময়মতো চিকিৎসা নিলে বহু রোগী দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন শুধুমাত্র বয়স্করাই আক্রান্ত হয় — যদিও এখন অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মধ্যেও রোগটি দেখা যাচ্ছে।

প্রোস্টেট ক্যানসার একটি গম্ভীর রোগ হলেও এটি এখন সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আপনার শরীরের পরিবর্তনগুলি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং যেকোনো অস্বাভাবিকতা হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….

প্রোস্টেট ক্যানসার: কীভাবে বুঝবেন আপনার প্রোস্টেট ক্যানসার হয়েছে (FAQ)

প্রশ্ন ১: প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?

উত্তর:
প্রাথমিক লক্ষণগুলো খুব সূক্ষ্ম হতে পারে, যেমন –

  • প্রস্রাবের সময় সমস্যা বা প্রবাহ দুর্বল হয়ে যাওয়া

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন, বিশেষ করে রাতে

  • প্রস্রাবে বা বীর্যে রক্ত দেখা

  • যৌন দুর্বলতা

  • কোমর বা পেলভিসে ব্যথা

প্রশ্ন ২: এসব উপসর্গ থাকলে কি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে প্রোস্টেট ক্যানসার হয়েছে?

উত্তর:
না, এই উপসর্গগুলো প্রোস্টেট ক্যানসার ছাড়াও অন্যান্য সমস্যায় দেখা যেতে পারে, যেমন – প্রোস্টেট গ্রন্থির স্বাভাবিক বৃদ্ধি (BPH), ইউরিনারি ইনফেকশন বা প্রোস্টাটাইটিস। কিন্তু এসব উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রশ্ন ৩: প্রোস্টেট ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য কোন কোন পরীক্ষা দরকার হয়?

উত্তর:

  • PSA (Prostate Specific Antigen) রক্ত পরীক্ষা

  • ডিজিটাল রেক্টাল এক্সাম (DRE)

  • আলট্রাসনোগ্রাম বা MRI

  • চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য প্রোস্টেট বায়োপসি

প্রশ্ন ৪: PSA টেস্টে কোন মাত্রা থেকে চিন্তার কারণ হতে পারে?

উত্তর:
সাধারণত PSA মাত্রা ৪ ng/mL-এর নিচে হলে তা স্বাভাবিক ধরা হয়।
৪–১০ ng/mL-এর মধ্যে থাকলে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।
১০ ng/mL-এর বেশি হলে ক্যানসারের সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং বায়োপসি করা দরকার হতে পারে।

প্রশ্ন ৫: বয়স কত হলে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে?

উত্তর:
বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি হলে ঝুঁকি বাড়ে।
যদি পরিবারের কারও প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকে (যেমন – পিতা বা ভাই), তাহলে ৪৫ বছর বয়স থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

প্রশ্ন ৬: প্রোস্টেট ক্যানসার ছোঁয়াচে কি?

উত্তর:
না, এটি ছোঁয়াচে নয়। এটি সংক্রমণ নয় বরং একটি হরমোন ও জিনগতভাবে প্রভাবিত হওয়া রোগ।

প্রশ্ন ৭: কোনো উপসর্গ না থাকলেও কি PSA পরীক্ষা করানো উচিত?

উত্তর:
হ্যাঁ, যদি আপনি ৫০ বছরের বেশি হন বা পারিবারিক ইতিহাস থাকে তবে উপসর্গ না থাকলেও প্রতি বছর একবার PSA টেস্ট করানো উচিত।

প্রশ্ন ৮: প্রোস্টেট ক্যানসার কি নিরাময়যোগ্য?

উত্তর:
হ্যাঁ, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এবং যথাযথ চিকিৎসা শুরু করলে প্রোস্টেট ক্যানসার নিরাময়যোগ্য হতে পারে।

প্রশ্ন ৯: প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায় কি?

উত্তর:
সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা না গেলেও ঝুঁকি অনেক কমানো যায়—

  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ

  • শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা

  • ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন

  • নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা

প্রশ্ন ১০: প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা যৌন ক্ষমতা বা প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে কি?

উত্তর:
কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সার্জারি বা রেডিয়েশন থেরাপির পর যৌন ক্ষমতা হ্রাস এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।