Skip to content
বাংলা ডায়েট প্ল্যান

বাংলা ডায়েট প্ল্যান: দেশি খাবার দিয়েই কীভাবে ফিট থাকবেন

বাংলাদেশি খাবার যেমন ভাত, ডালের পোলাও, মাছ, ডিম — প্রকৃতপক্ষে ফিট থাকার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি। পশ্চিমায়িত খাবারের ভূমিকায় না গিয়ে, আমরা এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার কম্বিনেশন করে এক স্বাস্থ্যকর ও সু-তালমিল ডায়েট প্ল্যান তৈরি করতে পারি। দেশি খাবার দিয়েই কীভাবে ফিট থাকবেন এই আর্টিকেলটিতে আপনি জানতে পারবেন

খাদ্যতালিকার মৌলিক উপাদান:

১. কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrates)

কার্বোহাইড্রেট আমাদের দেহের প্রধান এনার্জি উৎস। বিশেষ করে যারা শরীরচর্চা বা জিম করেন, তাদের জন্য কার্বোহাইড্রেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা শরীরকে এনার্জি দেয়, গ্লাইকোজেন স্টোর করে রাখে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

দেশি খাবারে কার্বোহাইড্রেটের উৎস
  • ভাত (সাদা বা বাদামি)

  • রুটি (আটা বা গমের)

  • আলু ও মিষ্টি আলু

  • চিড়া ও মুড়ি

  • খেজুর (নিম্ন পরিমাণে)

  • লাল চাল বা ব্রাউন রাইস

সতর্কতা:
অতিরিক্ত কার্ব গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই পরিমাণ মতো খেতে হবে এবং বিশেষত যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরকে Complex Carbs (যেমন ব্রাউন রাইস, ওটস) বেছে নেওয়া উচিত।

২. প্রোটিন (Protein)

প্রোটিন হল শরীরের “বিল্ডিং ব্লক”। আমাদের পেশি, ত্বক, চুল এবং হরমোনের গঠনে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে Muscle Building, Fat Loss অথবা Recovery Period-এর সময় প্রোটিন অপরিহার্য।

দেশি খাবারে প্রোটিনের উৎস
  • ডিম (Egg): পূর্ণাঙ্গ প্রোটিনের অন্যতম সহজলভ্য উৎস।

  • মাছ (Fish): ইলিশ, রুই, কাতলা, টেংরা ইত্যাদি।

  • মুরগির মাংস (Chicken): বিশেষত Skinless Chicken Breast।

  • ডাল: মসুর, মুগ, ছোলা ইত্যাদি।

  • দুধ ও দই: দুধজাত দ্রব্যে রয়েছে হাই-কোয়ালিটি প্রোটিন।

  • পনির বা ছানা: যারা ভেজিটেরিয়ান তাদের জন্য ভালো বিকল্প।

  • চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার।

সতর্কতা:
প্রতিদিনের প্রোটিনের চাহিদা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা এবং লক্ষ্য (Weight Loss বা Muscle Gain) এর উপর।

৩. চর্বি বা ফ্যাট (Fats)

অনেকেই মনে করেন ফ্যাট মানেই খারাপ। কিন্তু সত্যি হলো, Good Fats (স্বাস্থ্যকর চর্বি) আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটা শরীরের হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখে, ভিটামিন শোষণে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখে।

দেশি খাবারে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস
  • সরিষার তেল (Mustard Oil): Omega-3 এবং Omega-6 সমৃদ্ধ।

  • নারিকেল তেল (Coconut Oil): Medium Chain Triglycerides (MCTs) সমৃদ্ধ।

  • বাদাম (Peanuts, Almonds): Unsaturated fats এবং Protein দুটোই পাওয়া যায়।

  • ঘি (Moderation-এ): Vitamins A, D, E & K.

  • তিল (Sesame seeds): Healthy fats এবং Minerals.

সতর্কতা:
Deep-fried খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। Fast Food বা ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

৪. ভিটামিন ও মিনারেলস (Vitamins and Minerals)

ভিটামিন ও মিনারেলস শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন— রোগ প্রতিরোধ, হাড় শক্ত রাখা, চুলের স্বাস্থ্য, ত্বকের সৌন্দর্য ইত্যাদিতে সাহায্য করে।

দেশি খাবারে ভিটামিন ও মিনারেলসের উৎস
  • সবুজ শাকসবজি: পালং শাক, লাল শাক, কুমড়ো শাক, পুঁই শাক।

  • ফলমূল: কলা, আম, পেয়ারা, কমলা, জাম, আঙ্গুর।

  • টক দই: ক্যালসিয়াম এবং প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস।

  • মসলা: হলুদ, আদা, রসুন, ধনেপাতা— এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

  • ডাল: আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস।

টিপস:
প্রতিদিন অন্তত ২ ধরনের সবজি ও ১–২ ধরনের ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৫. ফাইবার (Dietary Fiber)

ফাইবার হজম শক্তি বাড়াতে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।

দেশি খাবারে ফাইবারের উৎস
  • সবজি: মুলা, করলা, ঢেঁড়স, শিম।

  • শাক: লাল শাক, পালং শাক, পুঁই শাক।

  • ফল: পেয়ারা, আপেল, জাম।

  • গোটা শস্য: ওটস, লাল চাল, ব্রাউন রাইস।

  • ডাল: বিশেষত কালো চানা ও মুগ ডাল।

সতর্কতা:
প্রচুর ফাইবারের সঙ্গে পানি খাওয়া জরুরি, নাহলে Constipation হতে পারে।

৬. জল বা পানি (Water)

পানির গুরুত্ব আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
শরীরের প্রায় ৬০-৭০% পানি দিয়ে গঠিত।
হজম, রক্ত সঞ্চালন, Nutrient Transport, Body Temperature Control—সবকিছুতেই পানি অপরিহার্য।

পানি খাওয়ার নিয়ম
  • সকালে উঠেই ১–২ গ্লাস কুসুম গরম পানি।

  • দিনে কমপক্ষে ৮–১০ গ্লাস।

  • ব্যায়াম করলে আরও বেশি।

টিপস:
লেবু বা শশা দিয়ে Detox Water বানিয়ে খেতে পারেন।

ফিট থাকায় দেশি ডায়েট প্ল্যান:

৩. ফিট থাকায় দেশি ডায়েট প্ল্যান

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক খাদ্যশস্য, শাকসবজি, মাছ এবং ফলমূলের বৈচিত্র্যের কারণে আমাদের দেশি ডায়েট প্ল্যান খুব সহজেই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর হতে পারে। ফিট থাকতে হলে আমাদের এমন একটি ডায়েট অনুসরণ করা উচিত যেখানে সমস্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সুষমভাবে থাকবে এবং সেটা আমাদের দৈনন্দিন কাজের এনার্জি, শরীরের গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

নিচে একটি উদাহরণমূলক দেশি ডায়েট প্ল্যান দেওয়া হলো, যা সহজলভ্য দেশি উপাদান দিয়ে সাজানো:

সকাল (Morning/Pre-Breakfast)
  • এক গ্লাস উষ্ণ পানি (লেবু বা মধু মিশিয়ে খেতে পারেন)

  • ৫-৬টি ভেজানো বাদাম বা চিয়া সিডস

সকাল ৮-৯টা (Breakfast)
  • ২টি সিদ্ধ ডিম বা এক টুকরো গ্রিলড মুরগির বুকের মাংস

  • ১ কাপ ওটস বা লাল চালের খিচুড়ি

  • শাকসবজি বা সেদ্ধ সবজি

  • ১ কাপ দুধ (ফ্যাট ফ্রি হলে ভালো)

মধ্য সকাল (Mid-Morning Snack)
  • একটি মৌসুমি ফল (যেমন কলা, পেয়ারা, আপেল, বা কমলা)

  • এক গ্লাস ডাবের পানি (চাইলে)

দুপুর (Lunch)
  • ১.৫ কাপ ভাত (পছন্দ করলে ব্রাউন রাইস)

  • ১ ভাগ মুরগি/মাছ/ডাল

  • পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি (পালং শাক, লাল শাক বা পুঁই শাক)

  • সালাদ (টমেটো, শসা, গাজর)

  • ১ চামচ সরিষার তেল (সাধারণ রান্নার জন্য)

  • এক গ্লাস লেবু পানি (চিনি ছাড়া)

বিকেল (Evening Snack)
  • এক কাপ গ্রিন টি বা লেবু চা

  • ১-২টি রুটি বা চিড়া/মুড়ি

  • সাথে সামান্য মসুর ডাল ভাজা বা ছোলা ভাজা

সন্ধ্যা (Pre-Dinner)
  • ১ গ্লাস ঘোল বা টক দই

  • সামান্য বাদাম বা তিলভাজা

রাতের খাবার (Dinner)
  • ১-২টি রুটি বা ছোট পরিমাণ ভাত

  • ১ ভাগ প্রোটিন (মাছ/মুরগি/ডাল)

  • পর্যাপ্ত শাকসবজি

  • সালাদ (টমেটো, শসা, গাজর, ধনেপাতা)

রাতে ঘুমের আগে
  • এক গ্লাস গরম দুধ (চিনি ছাড়া, চাইলে হলুদ মিশিয়ে নিতে পারেন)

অতিরিক্ত টিপস
  1. দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

  2. যতটা সম্ভব প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Food) এড়িয়ে চলুন।

  3. সপ্তাহে অন্তত ১-২ দিন মাছ খান।

  4. বেশি লবণ ও চিনি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

  5. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।

  6. খাবারের সময় ঠিক রাখার চেষ্টা করুন। কখনো একসাথে অনেক খেয়ে ফেলবেন না। ছোট ছোট ভাগে বারবার খান।

বিকল্প ও পরিমার্জনা:

  • ওজন কমাতে হলে: ভাত কমাও, শুধুমাত্র ৪–৬ চামচ। ছোট রুটি বা উচ্চ–ফাইবার বাজরা সম্পূরক রাখো।

  • মাসল গেইনের চাহিদায়: ভাত ও রুটি বেশি (১–২ পরিমাণ), মাছ ও ডিম ২–৩ গুণ বহুগুন বৃদ্ধি করো।

  • টিনা/নুন কম করতে: সেদ্ধ খাবার খান, মাছ-পোল্ট্রি গ্রিল বা ওভেনে বানাও।

  • ডায়াবেটিক প্রোফাইলে: বাদামি রুটি, লাল চাল (par-boiled or brown), সবজি ও প্রোটিনই মে‌ওর প্রাণ।

সচেতনতা ও সুস্বাস্থ্য টিপস:

১. সময়মত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়ার (Metabolism) ভারসাম্য নষ্ট করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

টিপস:

  • সকাল ৮-৯টার মধ্যে নাস্তা করুন।

  • দুপুর ১-২টার মধ্যে লাঞ্চ।

  • সন্ধ্যা ৫-৬টার মধ্যে হালকা স্ন্যাকস।

  • রাত ৮টার আগেই ডিনার সম্পন্ন করুন।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীরের সুস্থতার জন্য পানি অপরিহার্য। এটি ত্বক ভালো রাখে, হজমের উন্নতি করে এবং টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।

টিপস:

  • প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

  • গরমের দিনে বেশি পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত।

  • ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১-২ গ্লাস কুসুম গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৩. প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন

প্যাকেটজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, কোল্ড ড্রিংকস, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি যুক্ত খাবার দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

টিপস:

  • বাড়িতে রান্না করা দেশি খাবার খান।

  • বাইরের জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন।

  • শখের বসে মাঝে মাঝে খেলেও সেটাকে নিয়মিত অভ্যাস করবেন না।

৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

শরীরচর্চা না করলে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ থাকা সম্ভব নয়। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

যা করতে পারেন:

  • সকালবেলা হাঁটা বা দৌড়।

  • যোগব্যায়াম (Yoga)।

  • ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা বাড়িতেই Stretching।

  • জিমে গিয়ে Weight Training বা Cardio।

ব্যায়ামের উপকারিতা:

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ

  • স্ট্রেস রিলিফ

  • ঘুম ভালো হওয়া

  • মেটাবলিজম বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্রুত ক্যালরি বার্ন

৫. মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করুন

শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

টিপস:

  • প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট মেডিটেশন করুন।

  • পছন্দের কাজ করুন (পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা ইত্যাদি)।

  • নিয়মিত বন্ধু বা পরিবারের সাথে সময় কাটান।

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

৬. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর এবং নিরবিচারে ঘুম অপরিহার্য।

টিপস:

  • রাত ১০-১১টার মধ্যে ঘুমাতে যান।

  • ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভি স্ক্রিন ব্যবহার কম করুন।

  • ঘরের আলো কম রাখুন এবং শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন।

৭. ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান ও অ্যালকোহল শরীরের জন্য ধ্বংসাত্মক। এগুলো ক্যানসারসহ নানা মারাত্মক রোগের কারণ।

টিপস:

  • যাঁরা ধূমপান করেন, তারা ধীরে ধীরে কমিয়ে একদম ছাড়ার চেষ্টা করুন।

  • অ্যালকোহল সেবন একেবারেই না করাই ভালো।

৮. সিজনাল রোগ প্রতিরোধে দেশি উপায় অনুসরণ করুন

প্রতিটি ঋতুতে কিছু বিশেষ রোগের প্রকোপ দেখা যায়। যেমন সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া বা টাইফয়েড ইত্যাদি।

টিপস:

  • ঋতুভেদে খাদ্য পরিবর্তন করুন।

  • টক ফল (লেবু, কমলা) খেয়ে Vitamin C এর ঘাটতি দূর করুন।

  • বেশি বাইরে খাওয়া-দাওয়া এড়িয়ে চলুন।

  • বাজার থেকে আনতে হলে ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খান।

৯. দেশি ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করুন

দেশি মসলা ও খাবারের অনেক ভেষজ গুণ আছে।

উদাহরণ:

  • হলুদ: Anti-inflammatory

  • আদা: ঠাণ্ডা-কাশি কমায়

  • রসুন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

  • তুলসী পাতা: ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করে

১০. নিজের শরীরের পরিবর্তন লক্ষ করুন

শরীরের ওজন, রক্তচাপ, সুগার লেভেল, কোলেস্টেরল ইত্যাদি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। অসুস্থতার উপসর্গ বুঝলে দেরি না করে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

 

দেশি, সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর খাদ্য দিয়ে ফিট থাকা সহজ এবং টেকসই। ভাত বা রুটি থেকে শুরু করে মাছ, ডিম, ডালে—পুষ্টি সমৃদ্ধ উপাদান এক থাকলে শারীরিক ও মানসিক উজ্জীবন বাড়ে। এর সাথে খাওয়া-দাওয়ার সময় টিপস ও ব্যায়াম মিশিয়ে আপনি পাচ্ছেন একটি balanced lifestyle। আপনার ফিটনেস যাত্রা ইতিবাচক হোক—ভালো খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছুর প্রয়োজন নেই।

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………

বাংলা ডায়েট প্ল্যান: দেশি খাবার দিয়েই কীভাবে ফিট থাকবেন – FAQ

প্রশ্ন ১: দেশি খাবার খেয়ে ফিট থাকা কি সত্যিই সম্ভব?

উত্তর:
অবশ্যই সম্ভব। আমাদের দেশি খাবার যেমন ভাত, ডাল, শাক, মাছ, মুরগি, দেশি ফলমূল ইত্যাদিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেলস থাকে। সঠিক পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বজায় রেখে দেশি খাদ্যতালিকা অনুসরণ করলে সহজেই ফিট থাকা যায়।

প্রশ্ন ২: ওজন কমানোর জন্য কোন দেশি ডায়েট সবচেয়ে উপকারী?

উত্তর:
ওজন কমানোর জন্য লো-কার্ব (Low Carb), হাই-প্রোটিন এবং হাই-ফাইবার দেশি ডায়েট বেশ উপকারী। যেমন:

  • লাল চাল বা ব্রাউন রাইস

  • ডাল ও শাক

  • গ্রিল করা মুরগি বা মাছ

  • বেশি শাকসবজি

  • প্রচুর পানি

  • চিনি ও অতিরিক্ত তেল এড়িয়ে চলা

এছাড়া একসাথে অনেক বেশি খাওয়া না করে ছোট ছোট ভাগে বারবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

প্রশ্ন ৩: প্রোটিনের দেশি উৎস কী কী?

উত্তর:
দেশি প্রোটিনের উৎস হিসেবে আপনি নিতে পারেন:

  • ডিম

  • মুরগির মাংস

  • মাছ

  • ডাল

  • ছোলা

  • দুধ ও দই

  • পনির (ছানা)

  • চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার

প্রশ্ন ৪: ফিট থাকার জন্য দিনে কয়বার খাওয়া উচিত?

উত্তর:
সাধারণভাবে দিনে ৫-৬ বার ছোট ছোট ভাগে খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। যেমন:

  • প্রাতঃরাশ

  • মধ্য সকাল স্ন্যাকস

  • দুপুরের খাবার

  • বিকেলের স্ন্যাকস

  • রাতের খাবার

  • ঘুমের আগে হালকা কিছু (যদি প্রয়োজন হয়)

প্রশ্ন ৫: কোন দেশি খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত ফিটনেস বজায় রাখতে?

উত্তর:
ফিট থাকতে নিচের দেশি খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত:

  • অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার (পুরি, পরোটা, চপ, সিঙ্গারা)

  • অতিরিক্ত মিষ্টি ও ডেজার্ট (রসগোল্লা, সন্দেশ ইত্যাদি)

  • অতিরিক্ত তেলযুক্ত ঝাল খাবার

  • বেশি লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার

  • সোডা বা কোল্ড ড্রিঙ্কস

প্রশ্ন ৬: দেশি খাদ্যতালিকা দিয়ে Muscle Building করা সম্ভব কি?

উত্তর:
হ্যাঁ, সম্ভব। Muscle Building-এর জন্য বেশি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং পর্যাপ্ত Complex Carbs দরকার। দেশি ডায়েটে আপনি এগুলো পেতে পারেন:

  • গ্রিলড মুরগি বা মাছ

  • ডাল ও ছোলা

  • ডিম

  • লাল চাল বা ওটস

  • বাদাম

  • দুধ ও ঘি (Moderation-এ)

প্রশ্ন ৭: ঘরোয়া দেশি ডায়েটে ফাইবারের ভালো উৎস কী কী?

উত্তর:
দেশি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার:

  • পালং শাক, লাল শাক, পুঁই শাক

  • ঢেঁড়স, করলা, শিম

  • ফলমূল (পেয়ারা, জাম, কলা)

  • ডাল ও ছোলা

  • গোটা শস্য (লাল চাল, ব্রাউন রাইস, ওটস)

প্রশ্ন ৮: ব্যায়ামের আগে এবং পরে কী ধরনের দেশি খাবার খাওয়া উচিত?

উত্তর:
ব্যায়ামের আগে (Pre-Workout):

  • কলা

  • চিড়া

  • মধু দিয়ে টোস্ট

  • এক কাপ ব্ল্যাক কফি (যদি পছন্দ করেন)

ব্যায়ামের পরে (Post-Workout):

  • সিদ্ধ ডিম

  • গ্রিলড মুরগি

  • ডাল ও রুটি

  • এক গ্লাস দুধ

  • চিঁড়ে বা মুড়ি + ডাল/ছোলা

প্রশ্ন ৯: প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাওয়া কি ঠিক?

উত্তর:
না। প্রতিদিন একই খাবার খেলে শরীর একঘেয়ে Nutrient Intake পায়। তাই খাদ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, মাছ, ডাল, শস্য এবং ফলমুল খেতে হবে। এতে শরীরের সব ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ হবে।