Skip to content
সকালে পানি খাওয়া

সকালে পানি খাওয়া কি সত্যিই উপকারী: কখন খাবেন, কীভাবে খাবেন – বিস্তারিত গাইড

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আমরা প্রতিদিন নানান স্বাস্থ্য পরামর্শ শুনে থাকি। এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত অভ্যাস হলো — “খালি পেটে সকালে পানি পান করা।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটা কি সত্যিই উপকারী? যদি উপকারী হয়, তবে কখন, কতটা এবং কীভাবে খাওয়া উচিত? এই আর্টিকেলে আমরা এই সব প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণ করে দেখবো বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে।

সকালে পানি খাওয়া: প্রাচীন রীতি থেকে আধুনিক বিজ্ঞান

পানি খাওয়ার এই অভ্যাসটি শুধু আধুনিক নয়, বরং বহু প্রাচীন সংস্কৃতিতেও এর ব্যবহার দেখা যায়। যেমন:

  • জাপানি জল থেরাপি: জাপানে খালি পেটে পানি খাওয়ার প্রচলন বহু আগে থেকেই রয়েছে, যা নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়।

  • আয়ুর্বেদ: আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, সকালে উঠে উষ্ণ পানি পান শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে।

  • চীনা চিকিৎসা: প্রাচীন চীনা চিকিৎসা বিজ্ঞানেও খালি পেটে পানি খাওয়ার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আধুনিক বিজ্ঞানও আজ এই অভ্যাসকে স্বাস্থ্যকর বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিচে এর পেছনের কার্যকারণ ব্যাখ্যা করা হলো।

সকালে পানি খাওয়ার উপকারিতা:

১. দেহের বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করে

রাতভর ঘুমের সময় আমাদের শরীর একটি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। সকালে পানি খাওয়া এই প্রক্রিয়াটিকে আরও ত্বরান্বিত করে। খালি পেটে পানি পান করলে কিডনি ভালোভাবে কাজ করে এবং শরীরের জমে থাকা টক্সিন ইউরিনের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। ফলে ত্বক পরিষ্কার হয়, ব্রণ কমে এবং দেহে সতেজতা আসে।

২. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

সকালে খালি পেটে পানি খেলে পাকস্থলির পাচক রস নিঃসরণ শুরু হয় এবং হজম ক্ষমতা বাড়ে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সকালে পানি খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিক, অম্বল, বদহজম ও পেট ফাঁপা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৩. বিপাক হার (Metabolism) বাড়ায়

খালি পেটে পানি খেলে শরীরের মেটাবলিক রেট প্রায় ২৪% পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের ওজন কমাতে ইচ্ছা আছে বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী। দ্রুত মেটাবলিজম মানে খাদ্য দ্রব্য দ্রুত ভেঙে শক্তিতে রূপান্তর হওয়া, অর্থাৎ কম ফ্যাট জমা হওয়া।

৪. হৃদযন্ত্র এবং রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে

সকালে পানি খাওয়া রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে মসৃণ রাখে। এটি রক্তকে পাতলা রাখতে সাহায্য করে, ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

৫. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়

আমাদের মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫% পানি দিয়ে গঠিত। শরীরে পানির অভাব হলে মনোযোগ কমে, মাথাব্যথা হয়, এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি খেলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে এবং মস্তিষ্ক অধিক সক্রিয় হয়।

৬. ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে

পানি শরীরকে আর্দ্র রাখে। সকালে খালি পেটে পানি খাওয়ার অভ্যাস ত্বককে মসৃণ, উজ্জ্বল এবং দাগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে চুলের গোঁড়ায় রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, ফলে চুল পড়া কমে এবং চুল বেশি স্বাস্থ্যবান হয়।

৭. নিয়মিত মলত্যাগ নিশ্চিত করে

যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, তাদের জন্য সকালে খালি পেটে পানি পান একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার। পানি অন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে এবং মলত্যাগ সহজ হয়। এতে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং পেট হালকা লাগে।

৮. শরীর ও মনের সতেজতা বৃদ্ধি করে

রাতভর ঘুমের পর সকালে পানি খাওয়া শরীরের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে। এটি ক্লান্তিভাব দূর করে এবং চনমনে অনুভব করায়। মনোসংযোগ বাড়ে এবং দিন শুরু হয় সতেজতায়।

কখন পানি খাওয়া সবচেয়ে উপকারী:

১. সকালে ঘুম থেকে উঠেই

রাতভর শরীর বিশ্রামে থাকায় দেহে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। সকালে খালি পেটে ১–২ গ্লাস উষ্ণ বা সাধারণ তাপমাত্রার পানি পান করলে:

  • শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়

  • হজমশক্তি উন্নত হয়

  • মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়

  • কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে

২. খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে

খাবারের আগে পানি খেলে হজম রস তৈরি হয় এবং খাবার সঠিকভাবে হজমে সহায়তা করে। এটি অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৩. খাবার খাওয়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর

খাবারের ঠিক পরপরই পানি খেলে হজমে বিঘ্ন ঘটতে পারে, বিশেষ করে ভারী খাবারের ক্ষেত্রে। কিন্তু ১–২ ঘণ্টা পরে পানি পান করলে খাবারের হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়।

৪. ব্যায়াম করার আগে, চলাকালীন এবং পরে

ব্যায়ামের আগে পানি খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে, ফলে ক্লান্তি কম হয় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে। ব্যায়ামের সময় ও পরে পানি খেলে ঘামের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া তরল পুনরায় পূরণ হয়।

৫. গরম আবহাওয়ায় বা রোদে বের হওয়ার আগে ও পরে

তাপমাত্রা বেশি হলে শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে এবং ফিরে এসে পানি খেলে শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় থাকে।

৬. ঘুমাতে যাওয়ার আগে

রাতের ঘুমের সময়ও শরীর পানি হারায়। ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণে পানি খেলে রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে এবং হার্ট ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। তবে অতিরিক্ত পানি খেলে রাতে বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

৭. যখন প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়

প্রস্রাব যদি হলুদ বা গাঢ় হয়ে যায়, তা শরীরে পানির অভাবের ইঙ্গিত দেয়। এমন সময় পানি খাওয়া জরুরি।

৮. যখন ক্লান্তি বা মাথাব্যথা অনুভব করেন

অনেক সময় হাইড্রেশন কমে যাওয়ার ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে পানি পান করলে উপশম হয়।

কীভাবে খালি পেটে পানি খাবেন:

১. ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করুন

ঘুম ভাঙার পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত পানি খাওয়া। এ সময় শরীর প্রায় ৭–৮ ঘণ্টা পানিশূন্য অবস্থায় থাকে, তাই পানি শরীরকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করে।

২. খালি পেটে খাঁটি পানি পান করুন
  • পানি খাওয়ার সময় পেট একেবারে খালি থাকা উচিত।

  • আপনি চাইলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। এটি পাচন প্রক্রিয়া উন্নত করে।

৩. পরিমাণ: কতটুকু খাবেন?
  • সাধারণত সকালে ৪ গ্লাস (প্রতিটি প্রায় ১৬০–২০০ মি.লি.), অর্থাৎ ৬০০–৮০০ মি.লি. পানি পান করা সবচেয়ে উপকারী বলে ধরা হয়।

  • তবে নতুন শুরু করলে ১–২ গ্লাস দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. ধীরে ধীরে পান করুন
  • খুব দ্রুত পানি পান না করে ধীরে ধীরে ছোট চুমুকে পান করুন।

  • এতে হজমতন্ত্রে চাপ পড়ে না এবং শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে।

৫. পানি খাওয়ার পর অপেক্ষা করুন
  • পানি পান করার পর অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কিছু খাবেন না।

  • এই সময় শরীর অভ্যন্তরীণভাবে সক্রিয় হয় এবং পাচনতন্ত্র পরিষ্কার হতে থাকে।

৬. চাইলে লেবু বা মধু মেশাতে পারেন 
  • এক গ্লাস গরম পানিতে ১ চা চামচ লেবুর রস অথবা ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

  • এটি হজম শক্তি বাড়ায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

  • তবে ডায়াবেটিস থাকলে মধু এড়িয়ে চলুন।

৭. নিয়মিততা বজায় রাখুন
  • একদিন বা দুদিন খেয়ে বাদ দিলে উপকার পাবেন না।

  • প্রতিদিন এই অভ্যাসটি বজায় রাখতে হবে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে ফল পাওয়া যাবে।

সকালে পানি খাওয়ার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

১. খুব ঠান্ডা পানি পান করা

সকালে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খেলে পাকস্থলিতে ধাক্কা লাগে, হজমে সমস্যা হতে পারে এবং গ্যাস বা অম্বলের ঝুঁকি বাড়ে। বরং হালকা উষ্ণ বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করাই ভালো।

২. খুব দ্রুত পানি পান করা

অনেকেই তাড়াহুড়া করে একসাথে অনেক পানি খেয়ে ফেলেন। এতে:

  • পাকস্থলিতে চাপ পড়ে

  • হজমের সমস্যা হয়

  • দম আটকে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে
    সমাধান: ধীরে ধীরে ছোট চুমুকে পানি পান করুন।

৩. খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরে পানি খাওয়া

সকালে পানি খাওয়ার পর পরই যদি নাশতা করে ফেলেন, তাহলে পানির উপকারিতা অনেকাংশেই কমে যায়।
সমাধান: পানি খাওয়ার পর অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।

৪. খালি পেটে বেশি পানি পান করা শুরুতেই

অনেকে প্রথম দিনই ৪–৫ গ্লাস পানি খেয়ে ফেলেন, যা হঠাৎ শরীরে চাপ ফেলতে পারে।
সমাধান: শুরুতে ১–২ গ্লাস দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।

৫. অনিয়মিত অভ্যাস

একদিন খেয়ে পরদিন ভুলে যাওয়া – এতে কোনো উপকার পাওয়া যায় না।
সমাধান: প্রতিদিন নিয়ম করে পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। চাইলে স্মার্টফোনে অ্যালার্ম দিতে পারেন।

৬. খালি পেটে খুব গরম পানি খাওয়া

অনেকে ভাবেন গরম পানি বেশি উপকারী, কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি পাকস্থলির জন্য ক্ষতিকর।
সমাধান: কুসুম গরম বা হালকা উষ্ণ পানি খাওয়া নিরাপদ।

৭. পানি খাওয়ার পরেই কফি বা চা পান করা

পানি খাওয়ার সাথে সাথেই চা বা কফি পান করলে হজমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং দেহে পানি শোষণের প্রক্রিয়া কমে যায়।
সমাধান: পানি খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পরে চা-কফি পান করুন।

৮. অবিশুদ্ধ পানি পান করা

পানি বিশুদ্ধ না হলে তা উপকারের বদলে অপকারই করতে পারে।
সমাধান: বোতলজাত, ফিল্টারকৃত বা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

৯. পানি না চিবিয়ে খাওয়া

যদিও শুনতে অদ্ভুত লাগে, কিন্তু আয়ুর্বেদ মতে পানি ‘চিবিয়ে’ খাওয়া উচিত – অর্থাৎ মুখে রেখে আস্তে আস্তে গিলে ফেলা। এতে লালা মিশে গিয়ে হজমে সহায়তা করে।

১০. শরীরের অবস্থা বুঝে পানি না খাওয়া

যদি আপনার কিডনি সমস্যা, হৃদরোগ, বা হাইপোনাট্রেমিয়া (রক্তে সোডিয়াম কমে যাওয়া) থাকে, তাহলে বেশি পানি খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
সমাধান: বিশেষ কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পানি খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করুন।

বিজ্ঞানসম্মত মতামত ও গবেষণার ফলাফল:

১. মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে সহায়ক

গবেষণা:
২০০৩ সালে Journal of Clinical Endocrinology and Metabolism–এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়,

খালি পেটে প্রায় ৫০০ মি.লি. পানি পান করলে শরীরের মেটাবলিক রেট ৩০% পর্যন্ত বাড়তে পারে, এবং এ প্রভাব প্রায় ৩০–৪০ মিনিট স্থায়ী থাকে।

বিশ্লেষণ:
উচ্চ মেটাবলিজম মানে শরীর দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে সক্ষম—যা ওজন নিয়ন্ত্রণ বা হ্রাসে সহায়ক।

২. ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
রাতভর ঘুমের সময় শরীরের কোষগুলো রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে এবং নানা বর্জ্য তৈরি হয়। সকালে পানি খাওয়ার মাধ্যমে কিডনি দ্রুত এই টক্সিনগুলো ফিল্টার করে বের করতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞ মতামত:
পানির অভাবে ইউরিন ঘন হয়ে যায়, যা কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত সকালে পানি খাওয়ার অভ্যাস এই ঝুঁকি কমায় (সূত্র: National Kidney Foundation).

৩. হজমে সাহায্য করে

গবেষণা:
World Journal of Gastroenterology–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে পানি খাওয়া পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে এবং গ্যাস্ট্রিক রসের নিঃসরণে সাহায্য করে।

এতে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং পেট হালকা থাকে।

৪. মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
মানব মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫% পানি। হাইড্রেশনের ঘাটতি হলে মনোযোগ, মেমোরি এবং কাজের দক্ষতা কমে যেতে পারে।

গবেষণা:
২০১২ সালের একটি গবেষণা (Frontiers in Human Neuroscience) অনুযায়ী,

যারা পানি পান করেছিলেন তারা কগনিটিভ টেস্টে পান না করা ব্যক্তিদের চেয়ে ভালো স্কোর করেছিলেন।

৫. ত্বক ও রক্তপ্রবাহে উপকার

Dermatology Practical & Conceptual Journal-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে,

প্রতিদিন পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ালে ত্বকের নমনীয়তা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায়।

সকালে খালি পেটে পানি খাওয়ায় রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়, যা ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী।

৬. ওয়াটার থেরাপি 

জাপানে “ওয়াটার থেরাপি” বহু বছর ধরে চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জাপানিজ মেডিক্যাল সোসাইটির মতে, খালি পেটে পানি খাওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক, হাই ব্লাড প্রেশার, কোষ্ঠকাঠিন্য ও এমনকি ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক প্রভাব পড়ে।

তারা প্রতি সকালে খালি পেটে ৪ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন এবং এটি ১৫–৩০ দিনের মধ্যে উপকার দেয় বলে জানান।

৭. গবেষণা অনুযায়ী পানি না খাওয়ার ক্ষতি

European Journal of Clinical Nutrition–এ ২০১১ সালের একটি সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়,

পানি কম খেলে কিডনি ফাংশন কমে, রক্তচাপ বাড়ে, এবং মুড ও কগনিশনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অর্থাৎ সকালে খালি পেটে পানি না খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যায় সকালের পানি খাওয়া কি ঠিক:

১. ডায়াবেটিস

খালি পেটে পানি পান রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সামান্য কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পানি খাওয়ার আগে ইনসুলিন বা ওষুধের সময় ও খাদ্যাভ্যাস মাথায় রাখতে হবে।

২. কিডনি সমস্যা

প্রাথমিক কিডনি সমস্যায় পানি খাওয়া সহায়ক, তবে যাদের কিডনি কাজ কম করে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি বিপদজনক হতে পারে।

৩. হার্টের সমস্যা

সকালে ধীরে ধীরে পানি পান রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

টিপস: যদি কোনো ক্রনিক রোগ থাকে, তবে রুটিনে পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

একটি সহজ সকালের পানি পান রুটিন:

সময় করণীয়
সকাল ৬:০০ ঘুম থেকে উঠে ১ গ্লাস উষ্ণ পানি পান
সকাল ৬:৩০ হালকা ব্যায়াম বা যোগাভ্যাস
সকাল ৭:০০ নাশতার আগে আরেক গ্লাস পানি পান
নাশতার ১ ঘণ্টা পর ৩য় গ্লাস পানি পান

সকালে খালি পেটে পানি খাওয়া নিঃসন্দেহে একটি সহজ, সস্তা এবং কার্যকর স্বাস্থ্য অভ্যাস। এটি হজম, ত্বক, মস্তিষ্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সবকিছুরই একটি সীমা রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও অভ্যাস অনুযায়ী এই অভ্যাসকে মানিয়ে নেওয়াই উত্তম।

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….

FAQ


সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি খাওয়া কি সত্যিই উপকারী?

উত্তর:
হ্যাঁ, খালি পেটে সকালে পানি খাওয়া শরীর ডিটক্স করতে সাহায্য করে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং মেটাবলিজম উন্নত করে।


কতটুকু পানি খাওয়া উচিত সকালে?

উত্তর:
সাধারণত ১ থেকে ২ গ্লাস (প্রায় ২৫০–৫০০ মিলিলিটার) কুসুম গরম পানি খাওয়া উপকারী।

সকালে পানি খেলে কি ওজন কমে?

উত্তর:
সকালে পানি খেলে মেটাবলিজম বাড়ে, যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। তবে একে একমাত্র সমাধান ভাবা উচিত নয়।


খাবারের আগে না পরে পানি খাওয়া ভালো?

উত্তর:
খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পানি খাওয়া ভালো। খাবার খাওয়ার ঠিক পরেই প্রচুর পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।


পানিতে কি কিছু মিশিয়ে খাওয়া ভালো যেমন লেবু বা মধু?

উত্তর:
হ্যাঁ, সকালে হালকা গরম পানিতে লেবু ও এক চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়া অনেকেই উপকারী মনে করেন। এটি হজমে সহায়তা করে এবং শরীর সতেজ রাখে।


খুব ঠান্ডা পানি খাওয়া ঠিক হবে কি?

উত্তর:
না, একেবারে ঠান্ডা পানি খাওয়া এড়ানো উচিত, বিশেষ করে সকালে। বরং কুসুম গরম পানি শরীরের জন্য বেশি উপকারী।