Skip to content

এপথাস আলসার: লক্ষণ, কারণ ও ঘরোয়া চিকিৎসা

এপথাস আলসার, যা সাধারণভাবে ক্যানকার সোর (Canker Sore) নামে পরিচিত, মুখের অভ্যন্তরে ছোট, বেদনাদায়ক ঘা হিসেবে দেখা যায়। এগুলি সংক্রামক নয় এবং সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। এই ঘাগুলি সাধারণত জিহ্বা, ঠোঁটের ভিতরের অংশ, গালের ভিতরের দিক, বা মুখের ছাদের উপর দেখা যায়।

এপথাস আলসারের কারণসমূহ:

১. ইমিউন সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া

অনেক সময় শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজের মুখগহ্বরের কোষকে আক্রমণ করে বসে। এটিকে একটি “অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া মুখে আলসার সৃষ্টি করতে পারে। ইমিউন ব্যবস্থার অস্বাভাবিক কার্যকারণ এপথাস আলসারের একটি অন্যতম কারণ।

২. মানসিক চাপ এবং ক্লান্তি

দীর্ঘ সময় মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা এবং অনিদ্রা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং এই দুর্বলতা মুখে আলসার তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। পরীক্ষার সময়, চাকরির টেনশন, বা পারিবারিক সমস্যার কারণে এই ধরণের আলসার বেশি দেখা যায়।

৩. আঘাত বা ট্রমা

মুখের ভিতরে অসাবধানতাবশতঃ কামড়ে ফেলা, শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা, রুক্ষ খাদ্য খাওয়া (যেমন পাঁপড়, চিপস ইত্যাদি), বা ডেন্টাল চিকিৎসা (যেমন ব্রেসেস বা কৃত্রিম দাঁত) মুখগহ্বরের কোমল টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা এপথাস আলসার সৃষ্টি করতে পারে।

৪. পুষ্টির ঘাটতি

বিশেষ কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি মুখে আলসারের সম্ভাবনা বাড়ায়। যেমন:

  • ভিটামিন B12

  • ফোলেট (Folic Acid)

  • আয়রন (Iron)

  • জিঙ্ক (Zinc)

এই পুষ্টিগুলোর অভাব শরীরের কোষের গঠনে ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।

৫. হরমোনজনিত পরিবর্তন

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ওঠানামা মুখে আলসার সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থা কিংবা গর্ভনিরোধক বড়ি গ্রহণের কারণেও হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তন হতে পারে।

৬. অ্যালার্জি এবং সংবেদনশীলতা

বিশেষ কিছু খাবারের প্রতি অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা থেকেও এপথাস আলসার হতে পারে। যেমন:

  • চকলেট

  • কফি

  • টমেটো

  • বাদাম

  • দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য

  • গরম ও মসলা যুক্ত খাবার

৭. জেনেটিক বা বংশগত কারণ

পরিবারের কারো মধ্যে যদি এই রোগ থাকে, তবে অন্য সদস্যদের মধ্যে এর সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। অর্থাৎ, বংশগতভাবে প্রভাবিত হওয়াটাও একটি কারণ।

৮. সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস

যদিও এপথাস আলসার সাধারণত সংক্রামক নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (Helicobacter pylori), হারপেস ভাইরাসের প্রভাবে মুখে আলসার দেখা দিতে পারে।

৯. ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ

অনেক সময় দীর্ঘদিন ধূমপান করার পর হঠাৎ করে ধূমপান বন্ধ করলে মুখের টিস্যুতে রক্ষণশীলতা কমে যায়, যার ফলে আলসার দেখা দিতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ মুখের কোষে ক্ষতি করে।

১০. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু ওষুধ মুখের আলসার সৃষ্টি করতে পারে, যেমন:

  • নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAIDs)

  • বিটা-ব্লকার

  • কিছু কেমোথেরাপি ড্রাগ

১১. পাচনতন্ত্রের রোগ

কিছু অন্ত্রের রোগ যেমন ক্রোন্স ডিজিজ (Crohn’s Disease), সেলিয়াক ডিজিজ, বা আলসারেটিভ কোলাইটিসের রোগীদের মধ্যেও মুখে আলসার দেখা যায়।

লক্ষণ ও ধরন:

১. মুখগহ্বরে ব্যথাযুক্ত ঘা

সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হলো এক বা একাধিক গোল বা ডিম্বাকার ক্ষত, যা মুখের ভেতরের নরম অংশে দেখা যায়। যেমন:

  • গালের ভেতরের অংশ

  • ঠোঁটের ভেতর দিক

  • জিহ্বার নিচে বা পাশে

  • মুখের পেছনের অংশে

এই ক্ষতগুলো সাধারণত সাদা বা ধূসর রঙের হয়, যার চারপাশ লালচে থাকে।

২. দগদগে অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া

আলসার হওয়ার আগে ঐ স্থানে কিছুটা জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হতে পারে, যা এক থেকে দুই দিন পর ছোট ক্ষতে পরিণত হয়।

৩. মুখে খাওয়া, কথা বলা বা দাঁত ব্রাশ করার সময় ব্যথা

আলসারের কারণে সাধারণ কার্যকলাপে অসুবিধা হয়। খাবার গ্রহণের সময় ব্যথা তীব্র হয়, বিশেষ করে লবণাক্ত, টক বা মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার সময়।

৪. ক্ষতের আকার ও গভীরতা

সুধু এপথাস আলসার সাধারণত ৫ মিলিমিটার এর কম হয় এবং খুব বেশি গভীর নয়। তবে অনেক সময় একাধিক ছোট ক্ষত একত্রে বড় আকারও ধারণ করতে পারে।

৫. স্বাভাবিকভাবে আরোগ্য

এই আলসারগুলো সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই নিরাময় হয়ে যায় এবং দাগ রেখে যায় না।

৬. অন্যান্য উপসর্গ (কখনো কখনো দেখা যায়)
  • হালকা জ্বর

  • দুর্বলতা বা অলসতা

  • লিম্ফ গ্রন্থির সামান্য ফুলে যাওয়া (খুব কম ক্ষেত্রে)

চিকিৎসা ও প্রতিকার:

এপথাস আলসার সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে ব্যথা কমানো এবং দ্রুত নিরাময়ের জন্য কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:

১. ব্যথা ও অস্বস্তি কমানোর জন্য চিকিৎসা

‌ক. মলম ও জেল
  • বেঞ্জোকেইন (Benzocaine), লিডোকেইন (Lidocaine) – মুখে ব্যবহারের জন্য জেল বা তরল আকারে পাওয়া যায়। এগুলো সরাসরি ক্ষতের ওপর লাগালে ব্যথা অনেকটাই কমে।

  • অ্যান্টিসেপটিক জেল – যেমন ক্লোরহেক্সিডিন বা ট্রাইক্লোসান-যুক্ত জেল ক্ষতস্থানে জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

‌খ. মুখ ধোয়ার মাউথওয়াশ
  • ক্লোরহেক্সিডিন গার্গল – মুখ জীবাণুমুক্ত রাখে, ক্ষতের সেরে উঠতে সাহায্য করে।

  • নুন ও গরম পানির গার্গল – ব্যথা ও ফোলাভাব কমায়। এটি একটি ঘরোয়া উপকারী প্রতিকার।

‌গ. স্টেরয়েড মলম
  • মৃদু স্টেরয়েড-যুক্ত মলম (যেমন ট্রায়ামসিনোলন একোনাইড) চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করলে প্রদাহ কমে যায় এবং ক্ষত দ্রুত সারে।

২. দ্রুত আরোগ্যের জন্য খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

‌ক. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ
  • টক, ঝাল, লবণযুক্ত, বা কঠিন খাবার এড়িয়ে চলুন যাতে ক্ষতের ওপর ঘর্ষণ না হয়।

  • বেশি করে পানি পান করুন এবং নরম ও ঠাণ্ডা খাবার গ্রহণ করুন (যেমন দই, কলা, স্যুপ ইত্যাদি)।

‌খ. ভিটামিন ও খনিজ সাপ্লিমেন্ট
  • অনেক সময় ভিটামিন বি১২, ফোলেট, আয়রন বা জিঙ্ক-এর অভাবে আলসার হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।

৩. পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা

‌ক. মুখের সঠিক যত্ন
  • নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন তবে নরম ব্রিসল ব্যবহার করুন যাতে ঘর্ষণে আঘাত না লাগে।

  • অ্যালকোহল-মুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।

‌খ. মানসিক চাপ কমানো
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনেক সময় এপথাস আলসারের কারণ হতে পারে, তাই পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন ও ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ।

‌গ. অ্যালার্জেন বা ট্রিগার শনাক্ত করা
  • কিছু খাবার যেমন চকোলেট, বাদাম, কফি, পনির ইত্যাদি কিছু মানুষের জন্য ট্রিগার হতে পারে। নিজের ক্ষেত্রে কোনটি দায়ী তা পর্যবেক্ষণ করে বাদ দিন।

৪. চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত যখন

  • ঘা ১৪ দিনের মধ্যে না সারে

  • বারবার ঘা হচ্ছে, মাসে একাধিকবার

  • ঘা অনেক বড়, রক্তপাত হচ্ছে বা মুখ ফুলে যাচ্ছে

  • সাথে জ্বর, শরীরে ব্যথা বা অন্যান্য জটিলতা দেখা যাচ্ছে

প্রতিরোধ ও সচেতনতা:

এপথাস আলসার প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:

১. সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা
  • ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, আয়রন, জিঙ্ক ও ফলিক অ্যাসিড যুক্ত খাবার বেশি খাওয়া উচিত। যেমন: শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, দুধ ইত্যাদি।

  • খাদ্যে তীব্র মসলা, টকজাতীয় উপাদান, গরম খাবার এবং শক্ত খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস গঠন করুন, কারণ এসব খাবার মুখের ভিতরে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।

  • যেসব খাবার থেকে পূর্বে আলসার হয়েছে, যেমন চকোলেট, বাদাম, স্ট্রবেরি বা চিজ – সেগুলো থেকে দূরে থাকুন যদি এগুলো আপনার জন্য ট্রিগার হয়ে থাকে।

২. মুখ ও দাঁতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
  • প্রতিদিন অন্তত দুইবার নরম ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন। শক্ত ব্রাশ মুখের ভেতরের কোষে আঘাত করতে পারে, যা আলসারের কারণ হতে পারে।

  • অ্যালকোহল-মুক্ত ও মৃদু মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন, যা মুখের জীবাণু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

  • দাঁত ব্রাশ করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন, যেন মুখে কাটা না পড়ে।

৩. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
  • গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এপথাস আলসারকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

  • ধ্যান, প্রার্থনা, ব্যায়াম বা নিজের পছন্দের কাজের মাধ্যমে চাপ কমানো যেতে পারে।

৪. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন, মুখ শুকিয়ে গেলে মুখের ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

  • ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করুন – এগুলো মুখের কোষের স্বাভাবিক রক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়।

  • মুখে আঘাত থেকে বাঁচতে সাবধান থাকুন, বিশেষ করে যারা ব্রেস বা ডেন্টাল ডিভাইস ব্যবহার করছেন।

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো
  • যদি ঘন ঘন এপথাস আলসার হয়, তবে শরীরের ভিটামিন ঘাটতি, হরমোন পরিবর্তন, বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা থাকতে পারে। তাই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • যেসব রোগ যেমন সেলিয়াক ডিজিজ, ক্রোনস ডিজিজ বা বিহেভেটস সিনড্রোম – এগুলোর কারণে আলসার হতে পারে। এমন লক্ষণ থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৬. প্রতিকারমূলক ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা
  • স্টেরয়েড বা ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করুন।

  • নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড মলম ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ তা সমস্যার প্রকৃতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

৭. সচেতনতা বাড়ানো ও পারিবারিক অভ্যাস গঠন
    • পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশুদের মাঝে মুখের পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব বোঝাতে হবে।

    • স্কুল বা কর্মস্থলে মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, কারণ শিশু-কিশোরদের মাঝেও এপথাস আলসার দেখা যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন:

নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • ঘা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকলে।

  • ঘা বড় বা ব্যথাযুক্ত হলে।

  • খাওয়া, পান করা, বা কথা বলায় সমস্যা হলে।

  • জ্বর বা লিম্ফ নোড ফুলে গেলে।

  • ঘা বারবার হলে বা পুনরাবৃত্তি ঘটলে।

এপথাস আলসার একটি সাধারণ কিন্তু বেদনাদায়ক সমস্যা, যা সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে সঠিক পরিচর্যা, ঘরোয়া প্রতিকার, এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি দ্রুত নিরাময় করা সম্ভব। মুখের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এপথাস আলসার প্রতিরোধ করা যায়।

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….

এপথাস আলসার: লক্ষণ, কারণ ও ঘরোয়া চিকিৎসা – (FAQ)

প্রশ্ন ১: এপথাস আলসার কী?

উত্তর:
এপথাস আলসার হল মুখের ভেতরের নরম টিস্যুতে ছোট ক্ষত বা ঘা। এটি সাধারণত সাদা বা ধূসর রঙের হয় এবং চারপাশে লালচে হয়ে থাকে। এটি এক ধরনের ব্যথাযুক্ত ক্ষত, যা খাওয়ার সময় বা কথা বলার সময় অস্বস্তি সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন ২: এপথাস আলসারের লক্ষণ কী?

উত্তর:
এপথাস আলসারের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:

  • এক বা একাধিক ছোট, গোল বা ডিম্বাকৃতির ক্ষত, যা সাদা বা ধূসর এবং চারপাশে লালচে হয়ে থাকে

  • মুখে বা জিহ্বায় ব্যথা ও জ্বালাপোড়া

  • খাওয়ার সময় বা কথা বলার সময় অসুবিধা

  • ঘা সাধারনত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সেরে যায়

  • কিছু ক্ষেত্রে হালকা জ্বর বা লিম্ফ গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে

প্রশ্ন ৩: এপথাস আলসারের কারণ কী?

উত্তর:
এপথাস আলসারের স্পষ্ট কারণ কখনোই জানা যায় না, তবে কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে:

  • ভিটামিনের অভাব: বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, আয়রন, এবং ফলিক অ্যাসিডের অভাব

  • মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ

  • মুখে আঘাত: দাঁত ব্রাশ বা অন্যান্য কারণের মাধ্যমে মুখের ভেতরে আঘাত লাগা

  • খাবারের অ্যালার্জি: কিছু খাবার যেমন চকোলেট, বাদাম, টক ফল ইত্যাদি

  • হরমোনাল পরিবর্তন: বিশেষ করে মেয়েদের মাসিকের সময়

  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া: বিভিন্ন রোগের কারণে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হলে

  • জেনেটিক: পারিবারিক ইতিহাস থাকতে পারে

প্রশ্ন ৪: এপথাস আলসারের জন্য ঘরোয়া চিকিৎসা কী কী?

উত্তর:
এপথাস আলসারের জন্য কিছু সহজ এবং কার্যকরী ঘরোয়া চিকিৎসা রয়েছে:

  1. লবণ এবং গরম পানির গার্গল: এক চা চামচ লবণ এক গ্লাস গরম পানিতে মিশিয়ে দিন এবং মুখে গার্গল করুন। এটি ব্যথা কমাতে সহায়তা করবে।

  2. মধু বা নারকেল তেল: ক্ষতের উপর মধু বা নারকেল তেল লাগালে প্রদাহ কমে ও আরাম দেয়।

  3. ঠাণ্ডা দই বা ঠাণ্ডা পানি পান করা: দই ঠাণ্ডা করে খেলে মুখে আরাম দেয় এবং প্রদাহ কমায়।

  4. বাটার মিল্ক বা সর্ষের তেল: সর্ষের তেলের ব্যবহারে মুখের ক্ষত দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।

  5. বরফ বা ঠাণ্ডা বস্তু ব্যবহার: একটি বরফ টুকরো গলার বা ঘার কাছে রেখে ঠাণ্ডা কমপ্লেপ্রেস করলে কিছুটা ব্যথা কমে।

  6. তুলসি পাতা: তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়ার মাধ্যমে মুখের ক্ষত দ্রুত সেরে যেতে পারে।

  7. ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট: ভিটামিন বি১২ বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করলে আলসারের পুনরাবৃত্তি রোধ হতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে)।

প্রশ্ন ৫: এপথাস আলসারের জন্য কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

উত্তর:
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত যদি:

  • ক্ষতটি দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে না যায়

  • আলসার অনেক বড় হয়ে যায় অথবা রক্তপাত হতে থাকে

  • ঘা খুব তীব্র ব্যথাযুক্ত হয়ে যায়

  • যদি সঙ্গী কোনো জ্বর, শরীরের অস্বস্তি বা লিম্ফ গ্রন্থি ফুলে যাওয়া শুরু হয়

  • বারবার বা খুব ঘন ঘন আলসার দেখা দেয়

প্রশ্ন ৬: এপথাস আলসার প্রতিরোধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত?

উত্তর:
এপথাস আলসার প্রতিরোধে কিছু সাধারণ পদক্ষেপ নিতে পারেন:

  • মুখের স্বাস্থ্য সঠিক রাখা: নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন এবং অ্যালকোহল-মুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন

  • সন্তুলিত খাদ্য গ্রহণ: ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, ডাল ইত্যাদি খান

  • মানসিক চাপ কমানো: নিয়মিত ব্যায়াম, যোগ, ধ্যান বা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

  • ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা: এগুলি মুখের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

  • মুখের আঘাত থেকে সুরক্ষা: দাঁত ব্রাশ বা অন্যান্য কার্যক্রমে খুব বেশি শক্তি প্রয়োগ না করা

প্রশ্ন ৭: কখন এপথাস আলসার নিয়ে চিন্তা করা উচিত?

উত্তর:
এপথাস আলসার সাধারণত তেমন ভয়াবহ নয় এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে যদি এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায় বা এর সাথে অন্য কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর বা শরীরের অন্য অংশে ক্ষত সৃষ্টি হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।