Skip to content
স্বাস্থ্য বিষয়ক ভুল ধারণা

সত্য নাকি পুরনো কুসংস্কার: স্বাস্থ্য বিষয়ে ৫০টি ভুল চিন্তা ভেঙে ফেলুন

স্বাস্থ্য বিষয়ে অনেক প্রচলিত ধারা, বিশ্বাস ও অভ্যাস রয়েছে, যেগুলো যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কিন্তু এই বিশ্বাসগুলোর অনেকাংশই বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল প্রমাণিত। কুসংস্কার, অর্ধসত্য বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এসব “স্বাস্থ্য মিথ” শুধু বিভ্রান্ত করে না, অনেক সময় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে। চলুন, আজ আমরা জেনে নিই এমন ৫০টি ভুল স্বাস্থ্য ধারণা এবং সেগুলোর পেছনের সত্যতা—যাতে আপনি আর বিভ্রান্ত না হন এবং একটি সুস্থ ও সচেতন জীবন যাপন করতে পারেন।

৫০টি ভুল ধারণা ও তাদের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:

১. মিথ: দিনে ৮ গ্লাস পানি পান করতেই হবে।

বাস্তবতা: পানির প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। সঠিক পরিমাণ নির্ভর করে বয়স, ওজন, পরিবেশ ও শারীরিক সক্রিয়তার ওপর। শরীর নিজেই তৃষ্ণার মাধ্যমে জানান দেয় কখন পানি দরকার।

২. মিথ: ওজন কমাতে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

বাস্তবতা: জটিল কার্বোহাইড্রেট (যেমন শস্য, সবজি) স্বাস্থ্যকর। শুধুমাত্র প্রসেসড ও চিনি যুক্ত কার্বোহাইড্রেট ক্ষতিকর। শরীরের শক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন।

৩. মিথ: রাতে খাওয়া মোটা করে তোলে।

বাস্তবতা: মোটা হওয়া নির্ভর করে মোট ক্যালোরি ইনটেক ও ব্যয়ের ওপর, শুধু রাতের খাবারের সময় নয়। যদিও রাতে অতিরিক্ত খাওয়া ও অলসতা ওজন বাড়াতে পারে।

৪. মিথ: ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে।

বাস্তবতা: ডিমে থাকা কোলেস্টেরল স্বাস্থ্যকর HDL কোলেস্টেরল বাড়ায়। প্রতিদিন এক বা দুইটি ডিম সাধারণত নিরাপদ।

৫. মিথ: ভিটামিন সি সর্দি সারায়।

বাস্তবতা: ভিটামিন সি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, তবে সর্দির স্থায়ীত্ব বা তীব্রতা কমাতে প্রমাণ সীমিত।

৬. মিথ: ঘাম মানেই ক্যালোরি বার্ন হচ্ছে।

বাস্তবতা: ঘাম মূলত শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া। ক্যালোরি বার্ন হয় চেষ্টার ভিত্তিতে, শুধু ঘাম দিয়ে নয়।

৭. মিথ: সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে।

বাস্তবতা: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম যথেষ্ট। বিশ্রাম এবং পুনরুদ্ধারও গুরুত্বপূর্ণ।

৮. মিথ: ফ্যাট খাওয়া মানেই মোটা হওয়া।

বাস্তবতা: স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন অলিভ অয়েল, বাদাম, অ্যাভোকাডো) ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

৯. মিথ: শর্করা (চিনি) সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া উচিত।

বাস্তবতা: প্রাকৃতিক চিনি যেমন ফলের চিনি সীমিত পরিমাণে নিরাপদ। সমস্যা হলো অতিরিক্ত প্রসেসড চিনিতে।

১০. মিথ: নিরামিষ খাদ্যতালিকা পর্যাপ্ত প্রোটিন দেয় না।

বাস্তবতা: ডাল, ছোলা, বাদাম, সয়া ও অন্যান্য নিরামিষ উৎস থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া সম্ভব।

১১. মিথ: খালি পেটে ব্যায়াম করলে দ্রুত ওজন কমে।

বাস্তবতা: এতে অস্থায়ীভাবে ফ্যাট বার্ন বাড়তে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাও হতে পারে এবং শক্তি হ্রাস ঘটায়।

১২. মিথ: জ্বর মানেই অ্যান্টিবায়োটিক দরকার।

বাস্তবতা: অধিকাংশ জ্বর ভাইরাসজনিত, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।

১৩. মিথ: মোবাইল ফোন ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

বাস্তবতা: এখনো পর্যন্ত এমন কোনো দৃঢ় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যা মোবাইল ব্যবহারে ক্যান্সার নিশ্চিত করে।

১৪. মিথ: রাতে দাঁত ব্রাশ না করলেও চলে।

বাস্তবতা: রাতের খাবারের পর দাঁত ব্রাশ না করলে ব্যাকটেরিয়া গঠিত হয়ে দাঁতের ক্ষয় ঘটায়।

১৫. মিথ: চুল কাটলে চুল দ্রুত বাড়ে।

বাস্তবতা: চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে স্ক্যাল্পের নিচের ফলিকলের ওপর, কাটার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

১৬. মিথ: নারীদের গর্ভাবস্থায় একজোড়া খেতে হয়।

বাস্তবতা: গর্ভাবস্থায় মাত্র ৩০০–৫০০ অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রয়োজন হয়, “দুগুণ” নয়।

১৭. মিথ: কম ক্যালোরির খাবার মানেই স্বাস্থ্যকর।

বাস্তবতা: অনেক “low calorie” খাবার প্রসেসড, কৃত্রিম মিষ্টি ও রসায়নযুক্ত থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

১৮. মিথ: সানস্ক্রিন শুধু রোদে বের হলেই লাগাতে হয়।

বাস্তবতা: ইউভি রশ্মি মেঘ বা জানালার ভেদেও ত্বকে প্রভাব ফেলে, তাই নিয়মিত সানস্ক্রিন প্রয়োজন।

১৯. মিথ: বেশি ঘুম মানেই অলসতা।

বাস্তবতা: পর্যাপ্ত ঘুম (৭–৯ ঘণ্টা) শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

২০. মিথ: কাঁচা রসুন খেলে রক্তচাপ কমে যায়।

বাস্তবতা: কিছু গবেষণায় রসুনের উপকার দেখা গেছে, তবে কাঁচা রসুন একমাত্র সমাধান নয় এবং মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও 20টি প্রচলিত স্বাস্থ্য মিথ ও তাদের বাস্তবতা:

২১. মিথ: দুধ খাওয়া মানেই হাড় শক্ত হয়

বাস্তবতা: দুধ ক্যালসিয়ামের উৎস হলেও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন D, প্রোটিন, ব্যায়াম ও অন্যান্য পুষ্টিও জরুরি।

২২. মিথ: কাঁচা মধু সব ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে

বাস্তবতা: মধুর কিছু জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে, তবে সব ধরনের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। শিশুদের জন্য মধু বিপজ্জনক হতে পারে (বটুলিজম ঝুঁকি)।

২৩. মিথ: ডিটক্স ড্রিঙ্ক বা ডায়েট শরীর পরিষ্কার করে

বাস্তবতা: আমাদের লিভার ও কিডনি স্বাভাবিকভাবেই ডিটক্সিফিকেশন করে। বাজারজাত “ডিটক্স” পণ্যগুলো অধিকাংশই ছলনাপূর্ণ।

২৪. মিথ: মিষ্টি খেলে শিশু অতিরিক্ত চঞ্চল হয়ে পড়ে

বাস্তবতা: কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে চিনি শিশুদের হাইপারঅ্যাকটিভ করে।

২৫. মিথ: শুকনো মুখ মানেই পানিশূন্যতা

বাস্তবতা: পানিশূন্যতা অনেক উপসর্গের মধ্যে একটি শুকনো মুখ, তবে একমাত্র নয়। প্রস্রাবের রং ও পরিমাণ বেশি নির্ভরযোগ্য সূচক।

২৬. মিথ: ফ্রোজেন খাবার অস্বাস্থ্যকর

বাস্তবতা: অনেক ফ্রোজেন ফলমূল ও সবজি পুষ্টি ধরে রাখে এবং টাটকা বিকল্প হতে পারে।

২৭. মিথ: ঘন ঘন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ক্ষতিকর

বাস্তবতা: অ্যালকোহলভিত্তিক স্যানিটাইজার নিরাপদ, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বক শুষ্ক করতে পারে।

২৮. মিথ: প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট শুধু বডিবিল্ডারদের জন্য

বাস্তবতা: যাদের প্রোটিন চাহিদা খাদ্য থেকে পূরণ হয় না, তাদের জন্য সাপ্লিমেন্ট উপকারী হতে পারে।

২৯. মিথ: উচ্চ ক্যালোরির খাবার খেলে তাৎক্ষণিক ওজন বাড়ে

বাস্তবতা: ওজন বাড়ে সময়ের সঙ্গে ক্যালোরির ভারসাম্য নষ্ট হলে, একদিনের জন্য নয়।

৩০. মিথ: হাঁপানি রোগীরা ব্যায়াম করতে পারে না

বাস্তবতা: উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণে হাঁপানি রোগীরাও ব্যায়াম করতে পারে এবং করা উচিত।

৩১. মিথ: চোখ খারাপ হলে সবসময় চশমা পরতে হবে

বাস্তবতা: সব সময় না পরে দৃষ্টিশক্তি আরো খারাপ হবে – এই ধারণা ভুল।

৩২. মিথ: ভেষজ ও প্রাকৃতিক মানেই নিরাপদ

বাস্তবতা: অনেক প্রাকৃতিক উপাদানও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। পরিমাপ ও প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।

৩৩. মিথ: হৃদরোগ শুধু পুরুষদের হয়

বাস্তবতা: হৃদরোগ নারীদের মধ্যেও প্রধান মৃত্যুর কারণ। উপসর্গের ধরন ভিন্ন হতে পারে।

৩৪. মিথ: দাঁতের ব্রাশ যত শক্ত হবে, পরিষ্কার তত ভালো হবে

বাস্তবতা: শক্ত ব্রাশ ইমেল ক্ষয় ও মাড়ির ক্ষতি করতে পারে। নরম ব্রাশ ভালো।

৩৫. মিথ: খালি পেটে লেবু পানি পেট পরিষ্কার করে

বাস্তবতা: এতে অল্প হাইড্রেশন হয় বটে, কিন্তু এটি “পেট পরিষ্কার” বা বিষ অপসারণ করে না।

৩৬. মিথ: সিজারিয়ান ডেলিভারির পর কখনো নরমাল ডেলিভারি সম্ভব নয়

বাস্তবতা: VBAC (Vaginal Birth After C-Section) অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়।

৩৭. মিথ: ক্যান্সার ছোঁয়াচে রোগ

বাস্তবতা: ক্যান্সার ছোঁয়াচে নয়। তবে কিছু ভাইরাস (যেমন HPV) ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

৩৮. মিথ: ঘি খেলে শরীর গরম হয়ে যায়

বাস্তবতা: ঘি একটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট উৎস। ‘গরম’ হওয়া ব্যক্তিভেদে অনুভূত হতে পারে, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

৩৯. মিথ: মাথার খুশকি শুষ্কতা থেকে হয়

বাস্তবতা: খুশকি সাধারণত ত্বকের ছত্রাক Malassezia থেকে হয়, যা তৈলাক্ত ত্বকে বেশি হয়।

৪০. মিথ: দাঁত ফোঁড়ালে চোখ নষ্ট হয়

বাস্তবতা: একেবারেই ভিত্তিহীন কুসংস্কার। দাঁতের চিকিৎসার সঙ্গে চোখের কোনো সম্পর্ক নেই।

৪১. মিথ: ফাস্টিং (রোজা) স্বাস্থ্যহানিকর

বাস্তবতা: সঠিক নিয়মে ফাস্টিং অনেক ক্ষেত্রেই বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত করে।

৪২. মিথ: পুরুষদের দুধ খাওয়া উচিত নয়

বাস্তবতা: দুধ পুষ্টির জন্য উভয় লিঙ্গের জন্যই উপকারী, যদি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স না থাকে।

৪৩. মিথ: সব সাপ্লিমেন্ট ভালো

বাস্তবতা: অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট ক্ষতি করতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি।

৪৪. মিথ: ব্রেইন শুধু ১০% কাজ করে

বাস্তবতা: বিজ্ঞানের মতে, মস্তিষ্কের প্রায় সব অংশই সক্রিয় থাকে বিভিন্ন সময়ে।

৪৫. মিথ: সুস্থ থাকতে প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন দরকার

বাস্তবতা: সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে আলাদা মাল্টিভিটামিন সাধারণত দরকার হয় না।

৪৬. মিথ: চা/কফি পান করলে পানির ঘাটতি হয়

বাস্তবতা: চা/কফি হালকা ডিউরেটিক হলেও সাধারণত শরীরকে ডিহাইড্রেট করে না।

৪৭. মিথ: বাথরুমে বেশি মোবাইল ব্যবহারে পাইলস হয়

বাস্তবতা: দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পাইলসের ঝুঁকি বাড়ে, কিন্তু কারণ মোবাইল নয়।

৪৮. মিথ: হেঁচকি মানেই কেউ মনে করছে

বাস্তবতা: হেঁচকি ডায়াফ্রাম পেশির অনিচ্ছাকৃত সংকোচন। কল্পিত ব্যাখ্যা নয়।

৪৯. মিথ: ঘুমের ঘাটতি ঘুমিয়ে ‘তুলে নেওয়া’ যায়

বাস্তবতা: ঘুম জমিয়ে রাখা যায় না। ধারাবাহিক ঘুমের ঘাটতির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন।

৫০. মিথ: স্বাস্থ্য মানে ওজন কম হওয়া

বাস্তবতা: স্বাস্থ্য মানে শুধুমাত্র ওজন নয়, বরং হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, হজম, মানসিক অবস্থা ইত্যাদির সামগ্রিক অবস্থা।

কীভাবে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভুল ধারণা থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন:

১. উৎস যাচাই করুন (Verify the Source)

কেন জরুরি: সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে ছড়িয়ে পড়া স্বাস্থ্য টিপসের অনেকগুলোই অবৈজ্ঞানিক।
কী করবেন:

  • যেকোনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পড়লে বা শুনলে দেখুন এটি কোন উৎস থেকে এসেছে।

  • শুধু “ফেসবুকে দেখলাম” বা “মা বলেছে” যথেষ্ট নয় — খোঁজ করুন, এটা কি WHO, CDC, Mayo Clinic, বা কোন পিয়ার-রিভিউড জার্নালে এসেছে?

২. তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন

বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট:

৩. চিকিৎসকের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিন

মিথ: “আমার বন্ধুর জন্য যা কাজ করেছে, তা আমার জন্যও কাজ করবে।”
বাস্তবতা: একজনের শরীর, বয়স, রোগ, ও ওষুধ সহ্য করার ক্ষমতা ভিন্ন। সব পরামর্শ সবার জন্য নয়।
করণীয়:

  • যেকোনো ঘরোয়া চিকিৎসা বা সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

  • অনলাইন ফোরামে পাওয়া তথ্যকে “সহায়ক” হিসেবে দেখুন, চিকিৎসার বিকল্প নয়।

৪. বিজ্ঞান বুঝুন, গুজব নয়

মিথ Vs বিজ্ঞান বোঝার কৌশল:

  • মিথ বলে: চটজলদি সমাধান আছে।

  • বিজ্ঞান বলে: সময় লাগে, প্রমাণ লাগে, ফলাফল ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

চিনে নিন গুজবের লক্ষণ:

  • “১ দিনে ৫ কেজি ওজন কমান!”

  • “চিকিৎসকরা লুকিয়ে রেখেছে…”

  • “এই ১টি ঘরোয়া উপায়ে সব রোগের সমাধান!”

৫. নিজেকে স্বাস্থ্য শিক্ষিত করুন (Health Literacy)

উদাহরণস্বরূপ:

  • খাদ্য প্যাকেটের লেবেল পড়ার অভ্যাস গড়ুন।

  • বুঝে নিন শব্দগুলো যেমন: BMI, HDL, LDL, saturated fat ইত্যাদি।

  • মাসে অন্তত ১টি স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রবন্ধ পড়ার চেষ্টা করুন।

৬. “ট্রেন্ডিং” মানেই সঠিক নয়

উদাহরণ: কেটো ডায়েট, ডিটক্স ড্রিঙ্ক, কর্কুমা দুধ — এসব ট্রেন্ড সবসময় সব মানুষের জন্য উপযুক্ত না।
চিন্তা করুন:

  • এটা কি আমার বয়স, রোগ, বা শারীরিক অবস্থার জন্য নিরাপদ?

  • এটা কি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাকি ফ্যাড (fad)?

৭. প্রশ্ন করতে শিখুন

স্বাস্থ্য পরামর্শ পেলেই নিজেকে বা অন্যকে জিজ্ঞেস করুন:

  • এর পেছনে কী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?

  • এটি কে বলেছে এবং সে কীভাবে জানে?

  • কোনো গবেষণার নাম বা প্রমাণ দেওয়া হয়েছে কি?

৮. সোশ্যাল মিডিয়ার চিকিৎসা এড়িয়ে চলুন

সতর্ক থাকুন:

  • “ইনস্টাগ্রাম ডাক্তার”

  • “সেলেব্রিটি নিউট্রিশনিস্ট”

  • “ইউটিউব হেকস”

এদের অনেকেই কোনো মেডিক্যাল ট্রেনিং ছাড়াই ভিডিও বানান। তাদের দেওয়া ভুল তথ্য আপনার শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

৯. সন্দেহ হলে থেমে যান, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চিত না হলে পরীক্ষা করুন, জিজ্ঞেস করুন — অনুমান বা গুজবের ওপর ভরসা করবেন না।

১০. ধৈর্য ধরুন — স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদী বিষয়

দেহের সুস্থতা হঠাৎ হয় না। সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন —

    • ঘুম

    • খাওয়াদাওয়া

    • ব্যায়াম

    • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
      এসবই ধীরে ধীরে আপনাকে মিথ থেকে বাস্তবে আনবে।

স্বাস্থ্য সচেতন হতে গিয়ে যদি ভুল তথ্য বা প্রচলিত কুসংস্কারে পড়ি, তবে আমাদের লাভের বদলে ক্ষতি হয়। এই ৫০টি ভুল ধারণা ভেঙে আমরা যদি বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুসরণ করি, তবে স্বাস্থ্যবান জীবন গঠন সহজ হয়।

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….

সত্য নাকি পুরনো কুসংস্কার: স্বাস্থ্য বিষয়ে ৫০টি ভুল চিন্তা ভেঙে ফেলুন – FAQ 

১. প্রতিদিন ৮ গ্লাস পানি পান করতেই হবে – এটা কি সত্য?

 মিথ। পানি চাহিদা বয়স, আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে। পিপাসা অনুভব করাই সেরা গাইড।

২. রাতে খেলে ওজন বাড়ে – সত্য না ভুল?

ভুল। ওজন বাড়ে দিনে মোট ক্যালোরি ইনটেক বেশি হলে, সময় নয়।

৩. চিনি খেলে শিশু চঞ্চল হয়ে পড়ে – এটা কি প্রমাণিত?

না। বৈজ্ঞানিকভাবে এমন কোনো সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।

৪. সবুজ চা খেলে ওজন কমে – সত্য?

আংশিক সত্য। সামান্য বাড়তি ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করতে পারে, তবে একে একমাত্র সমাধান ভাবা ঠিক নয়।

৫. সিজারিয়ান ডেলিভারির পর স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্ভব নয়?

 ভুল। অনেক মায়েরা VBAC (Vaginal Birth After Cesarean) সফলভাবে করতে পারেন।

৬. ব্রেইন শুধু ১০% কাজ করে – এটা কি বৈজ্ঞানিক?

না। এটি একটি জনপ্রিয় মিথ। বাস্তবে, মস্তিষ্কের প্রায় সব অংশই কোনো না কোনো সময়ে সক্রিয় থাকে।

৭. ভ্যাকসিন অটিজম সৃষ্টি করে – সত্য?

একেবারেই মিথ। বহু গবেষণা প্রমাণ করেছে ভ্যাকসিন ও অটিজমের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

৮. দাঁত ফাঁকা করলে চোখ নষ্ট হয় – এটা কি বাস্তব?

ভিত্তিহীন কুসংস্কার। চোখ ও দাঁতের স্নায়ু আলাদা।

৯. প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন খাওয়া জরুরি – প্রয়োজন আছে কি?

না, যদি সুষম খাবার খান। সাপ্লিমেন্ট শুধুমাত্র ঘাটতি থাকলে প্রয়োজন।

১০. চা/কফি পান করলে শরীর ডিহাইড্রেট হয় – এটা কি সঠিক?

ভুল। এদের হালকা ডিউরেটিক প্রভাব থাকলেও, পানির ঘাটতি তৈরি করে না।