Skip to content
মহিলাদের তলপেটের গাঁঠ

মহিলাদের তলপেটের গাঁঠ: অ্যাডনেক্সাল ম্যাসের সব দিক

নারী স্বাস্থ্য নিয়ে সবচেয়ে জটিল ও আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো তলপেট বা পেলভিস অঞ্চলে গাঁঠ বা ম্যাস সৃষ্টি হওয়া। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় অ্যাডনেক্সাল ম্যাস (Adnexal Mass)। এটি মূলত ডিম্বাশয় (ovary), ফলোপিয়ান নালী (fallopian tube) কিংবা আশেপাশের টিস্যুতে একটি অস্বাভাবিক গাঁঠ বা ফোলা আকারে প্রকাশ পায়। এই গাঁঠ হতে পারে সাধারণ, নিরীহ (benign) আবার হতে পারে জটিল ও ক্যানসারযুক্ত (malignant)। প্রজননক্ষম নারীদের পাশাপাশি মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের মধ্যেও অ্যাডনেক্সাল ম্যাস দেখা যায়।

অ্যাডনেক্সাল ম্যাস কী:

‘অ্যাডনেক্সা’ শব্দটি ব্যবহার হয় জরায়ু সংলগ্ন অঙ্গগুলোর জন্য, যেমন ডিম্বাশয় ও ফলোপিয়ান নালী। ‘ম্যাস’ মানে গাঁঠ বা টিউমার জাতীয় সঞ্চয়। অতএব, অ্যাডনেক্সাল ম্যাস বলতে বোঝায় জরায়ুর পাশে অবস্থানরত অঙ্গগুলিতে গাঁঠ বা টিউমার তৈরি হওয়া। এটি একটি সাধারণ সমস্যা, তবে গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়ন না করলে এর জটিলতা বাড়তে পারে।

অ্যাডনেক্সাল ম্যাসের প্রকারভেদ:

ক. বিনাইন বা নিরীহ ম্যাস

এই ধরনের গাঁঠ সাধারণত ক্যানসারজাত নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর হয় না।

  • ফাংশনাল সিস্ট (Functional Cyst): ডিম্বসৃষ্টির প্রাকৃতিক চক্রে তৈরি হয়। মাসিক চক্রের সময় নিজে থেকেই চলে যায়।

  • ডার্ময়েড সিস্ট (Dermoid Cyst): জন্মগত, টিস্যু এবং চুল-চামড়া জাতীয় উপাদান থাকে।

  • এন্ডোমেট্রিওমা (Endometrioma): এন্ডোমেট্রিওসিস রোগে ডিম্বাশয়ে রক্ত জমে তৈরি হয়।

  • হেমোরেজিক সিস্ট (Hemorrhagic Cyst): সিস্টের মধ্যে রক্ত জমে যায়।

  • টিউবল ওভারিয়ান অ্যাবসেস (TOA): সংক্রমণজনিত ফলে পূর্ণ হয়।

খ. ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারস সিস্ট 

এই গাঁঠগুলো ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে বা নিজেরাই ক্যানসার। সাধারণত বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে এ ধরনের গাঁঠ দেখা যায়।

  • অভ্যন্তরীণ ডিম্বাশয়ের ক্যানসার

  • মেটাস্টেটিক ম্যাস (দেহের অন্য স্থানে ক্যানসার থেকে ছড়ানো)

অ্যাডনেক্সাল ম্যাসের কারণসমূহ:

১. হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে 

এই ধরণের ম্যাস সাধারণত প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের মধ্যে হয় এবং হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার কারণে তৈরি হয়।

  • অনিয়মিত ঋতুচক্র
  • বেশি মাত্রার LH বা FSH

  • ওভুলেশন না হওয়া

  • গর্ভধারণের হরমোনাল চিকিৎসা (Clomiphene, hCG)

২. ডিম্বাশয়ের সৌম্য টিউমার 

এইগুলো ক্যান্সার না হলেও বড় হলে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

  • জন্মগত ত্রুটি

  • এন্ডোমেট্রিওসিস

  • বংশগত ঝুঁকি

৩. প্রদাহজনিত কারণ

সংক্রমণের ফলে তৈরি অ্যাবসেস বা সিস্ট, বিশেষত পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID) এর কারণে।

  • যৌনবাহিত রোগ (যেমন Chlamydia, Gonorrhea)

  • অপরিষ্কার যৌন আচরণ

  • PID এর ইতিহাস

  • গাইনোকলজিক অস্ত্রোপচার পরবর্তী সংক্রমণ

৪. গর্ভাবস্থাজনিত কারণ 

গর্ভাবস্থার সময় কিছু স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক ম্যাস তৈরি হতে পারে।

  • প্রাকৃতিক গর্ভাবস্থা

  • IVF বা হরমোন ইনজেকশন

  • ফ্যালোপিয়ান টিউবের অস্বাভাবিকতা (যেমন সংকোচন)

৫. ক্যান্সার বা ম্যালিগন্যান্ট কারণ 

কখনো কখনো ম্যাস ক্যান্সার থেকেও হতে পারে।

  • বয়স (>৫০ বছর)

  • বংশগত ক্যান্সারের ইতিহাস (BRCA1/BRCA2)

  • স্থূলতা

  • অবিবাহিত বা নিঃসন্তান নারীরা

৬. অন্যান্য কারণ 
  • পেরিটোনিয়াল ফ্লুইড আটকে যাওয়া

  • পুরনো ইনফেকশন বা অস্ত্রোপচার

  • লিগামেন্ট বা অ্যাডনেক্সাল টিস্যুর গঠনগত সমস্যা

উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ:

১.পেলভিক বা তলপেটের ব্যথা
  • ধারাবাহিক বা খিঁচুনি জাতীয় ব্যথা

  • হালকা থেকে তীব্র হতে পারে

  • বিশেষত মাসিকের সময় বা সহবাসের সময় বাড়ে (dyspareunia)

২.ঋতুচক্রের অসামঞ্জস্যতা
  • অনিয়মিত মাসিক

  • মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত (menorrhagia)

  • মাঝে মাঝে রক্তপাত (metrorrhagia)

৩.পেট ফোলাভাব ও চাপের অনুভূতি
  • নিচের পেটে চাপ অনুভব করা

  • গ্যাস আটকে থাকার মতো অনুভব

  • খাবার কম খাওয়ার পরও পেট ভরা ভরা লাগা

৪.মূত্রতন্ত্র ও পাচনতন্ত্রের উপসর্গ
  • ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ

  • প্রস্রাব করতে অসুবিধা

  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগে অসুবিধা

৫.বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান না হওয়া
  • দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হওয়া

  • ফ্যালোপিয়ান টিউবের রুদ্ধতা বা এন্ডোমেট্রিওসিস সংশ্লিষ্ট হতে পারে

৬.হরমোনজনিত উপসর্গ (বিশেষত টিউমার হলে)
  • অস্বাভাবিক রোম বৃদ্ধি (hirsutism)

  • বাচ্চাদের মধ্যে দ্রুত যৌবন শুরু (precocious puberty)

  • স্তনের পরিবর্তন বা discharge

তীব্র ও আকস্মিক উপসর্গ (জটিলতা হলে):

ওভারির পাক খাওয়া
  • হঠাৎ তীব্র তলপেট ব্যথা

  • বমি বা বমির ভাব

  • জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন

সিস্ট ফেটে যাওয়া
  • হঠাৎ ব্যথা, পেটে ফাঁপা বা রক্তপাত

  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া (severe ক্ষেত্রে)

Tubo-ovarian abscess (TOA)
  • জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা

  • ব্যথা সহ পিউরুলেন্ট ডিসচার্জ

  • পেলভিক ইনফেকশনের লক্ষণ

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • যদি উপরের কোনো লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয়

  • তলপেটে আকস্মিক তীব্র ব্যথা হয়

  • জ্বর বা বমির সঙ্গে ব্যথা থাকে

  • অনিয়মিত মাসিক, রক্তক্ষরণ বা পেট ফোলা অনুভব করেন

  • পরিবারে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকে

নির্ণয় পদ্ধতি:

অ্যাডনেক্সাল ম্যাস সনাক্তে নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করা হয়:

ক. শারীরিক পরীক্ষা

ডাক্তার প্যালপেশন বা স্পর্শ করে ম্যাস অনুভব করেন।

খ. আল্ট্রাসাউন্ড (USG)

সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রথমিক ধাপ। ম্যাসটি সলিড না সিস্টিক, একপাশে না দুপাশে — এসব বোঝা যায়।

গ. CA-125 টেস্ট

একটি রক্তপরীক্ষা যা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। তবে সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়।

ঘ. CT স্ক্যান বা MRI

বৃহৎ বা জটিল ম্যাস হলে করা হয়।

ঙ. ল্যাপারোস্কপি

অল্প কাটা দিয়ে ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে গাঁঠ পরীক্ষা ও অপসারণ করা হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি:

অ্যাডনেক্সাল ম্যাসের চিকিৎসা নির্ভর করে তার ধরণ, উপসর্গ, রোগীর বয়স ও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছার ওপর। সাধারণত নিচের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা হয়:

১. ফাংশনাল সিস্ট (Functional Cyst)
  • সাধারণত প্রজনন বয়সের মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়।

  • অধিকাংশই স্বাভাবিকভাবে ১–৩ মাসে চলে যায়।

  • চিকিৎসা:

    • পর্যবেক্ষণ (Watchful waiting)

    • পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম ৬–৮ সপ্তাহ পরে

    • প্রয়োজনে ওরাল কনট্রাসেপ্টিভ পিল

২. ডার্ময়েড সিস্ট (Dermoid Cyst / Mature Teratoma)
  • সাধারণত বিনাইন এবং ধীরে ধীরে বড় হয়।

  • কদাচিৎ টরশন বা রাপচার হতে পারে।

  • চিকিৎসা:

    • সার্জিক্যাল রিমুভাল (Cystectomy or Oophorectomy depending on age and fertility concern)

    • ল্যাপারোস্কোপি বা ল্যাপারোটোমি মাধ্যমে অপারেশন করা হয়।

৩. এন্ডোমেট্রিওমা
  • এন্ডোমেট্রিওসিসের ফলে গঠিত সিস্ট।

  • ব্যথাযুক্ত ঋতুচক্র, ইনফার্টিলিটি দেখা দেয়।

  • চিকিৎসা:

    • হরমোনাল থেরাপি (GnRH analogues, OCPs)

    • ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি – সিস্ট রিমুভাল

৪. টিউবল-ওভেরিয়ান অ্যাবসেস (TOA)
  • পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজের (PID) জটিলতা।

  • প্রচণ্ড জ্বর, পেট ব্যথা, ডিসচার্জ ইত্যাদি উপসর্গ থাকে।

  • চিকিৎসা:

    • ইনজেকশান অ্যান্টিবায়োটিক (IV Antibiotics)

    • প্রয়োজনে সার্জিকাল ড্রেনেজ বা রিমুভাল

৫. ইকটোপিক প্রেগন্যান্সি
  • জরুরি অবস্থা।

  • জরায়ুর বাইরে প্রেগন্যান্সি হলে, সাধারণত ফ্যালোপিয়ান টিউবে হয়।

  • চিকিৎসা:

    • স্টেবল হলে – মেথোট্রেক্সেট ইনজেকশন

    • আনস্টেবল হলে – জরুরি সার্জারি (Salpingectomy)

৬. ম্যালিগন্যান্ট অ্যাডনেক্সাল ম্যাস
  • সাধারণত বয়স ৫০ বছরের উপরে দেখা যায়।

  • উপসর্গ: পেট ফাঁপা, ওজন কমে যাওয়া, পেট ব্যথা ইত্যাদি।

  • চিকিৎসা:

    • সার্জারি (TAH+BSO, Omentectomy)

    • কেমোথেরাপি

    • প্রয়োজনে রেডিওথেরাপি

    • নিয়মিত ফলোআপ এবং CA-125 মনিটরিং

ক্যানসার সন্দেহ হলে করণীয়:

  • CA-125 এবং অন্যান্য টিউমার মার্কার পরীক্ষা

  • অনকোলজিস্টের (ক্যানসার বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ নেওয়া

  • বায়োপসি করে নিশ্চিত হওয়া

  • সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা (যেমন: সার্জারি, কেমোথেরাপি ইত্যাদি)

গর্ভাবস্থায় অ্যাডনেক্সাল ম্যাস:

১. ফাংশনাল সিস্ট 
  • কোরপাস লিউটিয়াম সিস্ট (Corpus Luteum Cyst): গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহে ডিম্বাণু ছাড়ার পর গর্ভাশয়ে যে হরমোন উৎপাদনের জন্য কোরপাস লিউটিয়াম তৈরি হয়, সেটি বড় হয়ে সিস্টে পরিণত হতে পারে। এই সিস্ট গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত সাধারণ এবং অধিকাংশ সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরে যায়।

  • ফলিকুলার সিস্ট (Follicular Cyst): ডিম্বাণু মুক্তির আগে বা পরে ফোলিকল বড় হয়ে সিস্টে রূপান্তরিত হলে এটি হয়।

২. ডার্ময়েড সিস্ট 
  • এটি একটি সাধারণ বিনাইন (Benign) টিউমার যা বিভিন্ন ধরনের টিস্যু যেমন চুল, চামড়া, দাঁত ইত্যাদি ধারণ করে। গর্ভাবস্থায় ধরা পড়তে পারে এবং সাধারণত অপারেশনের মাধ্যমে সরানো হয়।

৩. এন্ডোমেট্রিওমা 
  • যাদের শরীরে এন্ডোমেট্রিওসিস থাকে, তাদের ওভারিতে ব্ল্যাক সিস্ট হিসেবে পরিচিত এন্ডোমেট্রিওমা গর্ভাবস্থায় ম্যাস হিসেবে ধরা পড়তে পারে।

৪. টিউবল-ওভেরিয়ান অ্যাবসেস 
  • পেলভিক ইনফেকশনের কারণে ফ্যালোপিয়ান টিউব বা ওভারি এলাকায় পুঁজ জমে অ্যাবসেস (ফোঁড়া) তৈরি হতে পারে, যা ম্যাস হিসেবে ধরা পড়ে।

৫. ইকটোপিক প্রেগন্যান্সি 
  • ফ্যালোপিয়ান টিউবে অবস্থান করা গর্ভাশয়ের বাইরে গর্ভধারণ ইকটোপিক প্রেগন্যান্সি হিসেবে ধরা পড়ে, যা জরুরি অবস্থা।

৬. ম্যালিগন্যান্ট টিউমার 
  • বিরল হলেও গর্ভাবস্থায় ওভারিয়ান ক্যান্সার বা অন্যান্য ম্যালিগন্যান্ট ম্যাস দেখা দিতে পারে।

৭. অন্যান্য কারণ
  • পারগোসিস (Paraovarian Cysts): ওভারি ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের বাইরে সৃষ্ট সিস্ট।

  • সেরোসিস (Serous Cysts): ওভারির লাইনিং থেকে উৎপত্তি হওয়া সিস্ট।

  • মিউসিনাস সিস্ট (Mucinous Cysts): স্লিমি জেলি জাতীয় কনটেন্ট ধারণকারী সিস্ট।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা:

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

  • মাসিক অনিয়ম অবহেলা না করা

  • পরিবারে ক্যানসার ইতিহাস থাকলে বিশেষ নজর রাখা

  • সংক্রমণজনিত অসুখের দ্রুত চিকিৎসা

  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: সঠিক ডায়েট, ব্যায়াম, মানসিক স্বস্তি

অ্যাডনেক্সাল ম্যাস নারীদের একটি সাধারণ কিন্তু উপেক্ষিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি নিরীহ ও চিকিৎসাযোগ্য। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যানসারসহ ভয়াবহ রোগের পূর্বাভাস হতে পারে। তাই যেকোনো তলপেটের অস্বাভাবিকতা বা উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।নারীদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা ও উপযুক্ত চিকিৎসাই পারে জীবন বাঁচাতে এবং জীবনকে আরও সুস্থ ও সাবলীল করে তুলতে। অ্যাডনেক্সাল ম্যাস কোনো গোপন বা লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া দরকার, যাতে নারীরা নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন।
…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………….

মহিলাদের তলপেটের গাঁঠ সম্পর্কিত (FAQ)

১. অ্যাডনেক্সাল ম্যাস কি?

অ্যাডনেক্সাল ম্যাস বলতে সাধারণত ওভারী (ডিম্বাশয়), ফ্যালোপিয়ান টিউব অথবা পার্শ্ববর্তী তলপেটের গঠনগুলোর মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক গাঁঠ বা বৃদ্ধি বোঝানো হয়।

২. অ্যাডনেক্সাল ম্যাসের সাধারণ কারণগুলো কী কী?
  • ওভারি সিস্ট (Ovarian cyst)

  • এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis)

  • ফ্যালোপিয়ান টিউবের পেরিটোনাইটিস বা সংক্রমণ

  • গাইনোকলজিক্যাল টিউমার (Benign or malignant)

  • পয়েট্রোস্যাম্পলিং (Tubal pregnancy)

৩. এই গাঁঠ কিভাবে ধরা পড়ে?
  • তলপেট ব্যথা, ফুলে থাকা বা অস্বস্তি অনুভূতি

  • মেনস্ট্রুয়াল ইরেগুলারিটি

  • আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) বা CT/MRI স্ক্যানের মাধ্যমে

৪. অ্যাডনেক্সাল ম্যাস ক্যান্সার হতে পারে?

হ্যাঁ, কিছু অ্যাডনেক্সাল ম্যাস সিস্ট, ফাইব্রয়েড বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক টিউমার হতে পারে, যা ক্যান্সারজেনিক (malignant) হতে পারে। তাই সময়মতো ডায়াগনোসিস জরুরি।

৫. অ্যাডনেক্সাল ম্যাসের চিকিৎসা কী?
  • ছোট এবং বেনাইন ম্যাস হলে অনেক সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়।

  • বড় বা সন্দেহজনক ম্যাস হলে সার্জারি বা ওভারির গঠন অপসারণ করা হতে পারে।

  • সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়।

৬. অ্যাডনেক্সাল ম্যাস কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
  • মেডিকেল ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা

  • আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG)

  • রক্ত পরীক্ষা (যেমন CA-125 টেস্ট ক্যান্সারের সন্দেহে)

  • CT বা MRI প্রয়োজন হতে পারে

৭. অ্যাডনেক্সাল ম্যাস থেকে বাঁচার উপায় কী?
  • নিয়মিত গাইনোকলজিক্যাল চেকআপ করানো

  • পিরিয়ড বা তলপেটে কোনো অস্বাভাবিকতা হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণ নেওয়া

  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

৮. অ্যাডনেক্সাল ম্যাস কি গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করে?

কিছু ক্ষেত্রে বড় বা জটিল ম্যাস গর্ভধারণে সমস্যা করতে পারে, বিশেষ করে যদি ওভারির ফাংশন প্রভাবিত হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।